মৃত্যুর আগে পুলিশকে যা বলে গেলেন ভারতের ‘নতুন নির্ভয়া’

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:১৩, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৪, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

কয়েক বছর আগে দিল্লির বাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়া মেডিক্যাল শিক্ষার্থী তুমুল প্রতিরোধ গড়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে ‘নির্ভয়া’ পরিচয় পেয়েছিলেন। এবার ধর্ষণ মামলার শুনানিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে অভিযুক্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ ২৩ বছর বয়সী এক ভারতীয় নারীও একই রকমের প্রতিরোধ গড়েছেন। ৯০ ভাগ পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে ২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগে পুলিশের কাছ আক্রমণকারীদের শনাক্ত করে গেছেন। পুলিশের কাছে দিয়ে গেছেন, তার শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ। 

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, উন্নাও জেলার ওই নারী চলতি বছরের মার্চে তার গ্রামের দুই পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার আদালতে যাওয়ার পথে মামলার অভিযুক্তদের আক্রমণের শিকার হন তিনি। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় তার শরীর। পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করায়।  অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানান্তর করা হয় লক্ষ্ণৌয়ের ট্রমা সেন্টারে। পরে তাকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নেওয়া হয়। আগুনের সঙ্গে দুই দিনের লড়াই শেষে শুক্রবার রাত ১১টা ৪০ নাগাদ সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর আগে ওই নারী পুলিশকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘ভোর ৪টার সময় আমি স্থানীয় রেলস্টেশনে যাওয়ার জন্যে ট্রেন ধরতে যাচ্ছিলাম। সেই সময়েই ওই ৫ জন ওৎ পেতে অপেক্ষা করছিল। ওরা আমাকে ঘিরে ধরে প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করে এবং আমার ঘাড়ে ছুরি দিয়েও আঘাত করে। তারপর ওরা আমার গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।’ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়া সত্ত্বেও হাসপাতালে নেওয়ার সময় সম্পূর্ণ সজ্ঞান ছিলেন ওই নারী। সেখানেই তিনি পাঁচজন আক্রমণকারীকে শনাক্ত করে পুলিশকে ওই বিবৃতি দেন।

উন্নাওয়ের ধর্ষণের শিকার ওই নারী বলেন, ‘আমার চিৎকারে সেখানে লোক জড়ো হয় এবং তারাই পুলিশকে খবর দেয়।’

ভারতে প্রায়শই যৌন সহিংসতার শিকার হয় নারীরা। ২০১৮ সালে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের এক জরিপ অনুযায়ী, নারীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ এটি। অ্যাকটিভিস্টরা বলছেন, নারীর বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। গত সপ্তাহে দেশটিতে বেশ কয়েকটি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। ঝাড়খণ্ডে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন এক নারী আইনজীবী। রাজস্থানে ছয় বছরের এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদে ২৭ বছর বয়সী এক পশু চিকিৎসককে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।  

২০১২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হন এক মেডিকেল শিক্ষার্থী। মিডিয়ায় 'নির্ভয়া' স্বীকৃতি পাওয়া ওই নারী ১৩ দিন পর সিংগাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় ভারতজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠলে বিক্ষোভকারীদের চাপে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে আইন পরিবর্তনেও বাধ্য হয় ভারত সরকার।এ ঘটনায় চার আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়। আর বাসটির চালক রাম সিং কারাগারে আত্মহত্যা করে।

/এইচকে/বিএ/

লাইভ

টপ