রাখাইনে সেনাদের গুলিতে নিহত ৯ বছরের শিশু

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:০৩, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৫, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গুলিতে নয় বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। স্কুল থেকে ফেরার পথে মং কিয়াও মিন মিয়াত নামের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে কিয়াকটাও টাউনশিপের এক আশ্রম ঘাঁটিতে থাকা সেনা সদস্যদের ছোড়া গুলিতে ওই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।

ওই শিক্ষার্থীর মা-বাবা মালয়েশিয়ায় কাজ করেন। সেকারণে শিশুটি ফুপুর পরিবারে বড় হচ্ছিল। ওই শিক্ষার্থীর ফুপু চো চো আই মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতিকে বলেন, ‘সকাল নয়টায় স্কুল থেকে ভাইপো ও অন্য শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরছিল। একটি বিস্ফোরণের শব্দের পর তারা দ্রুত বাড়ির দিকে দৌড় দেয়। রাস্তায় তিন সেনাসদস্য গুলি ছুড়ছিল। বাড়িতে প্রবেশের মুখে গুলিবিদ্ধ হয় আমার ভাইপো। আমার কোলেই মারা যায় সে’।

কিয়াকটাও থেকে নির্বাচিত রাখাইন রাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য উ মং মং বলেছেন, তিনিও বিস্ফোরণের শব্দের পর গুলির শব্দ শুনেছেন। তিনি বলেন, সকাল দশটার দিকে শুনতে পেলাম এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পরে আমি কিয়াকটাও জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে দেখি। তার শরীরে পাঁচটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির শরীরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল উইন জাও উ বলেছেন, ওইদিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে আরাকান আর্মির সদস্যরা কিয়াং আশ্রমের কাছে টহলরত সেনাসদস্যদের ওপর হামলা চালায়। পরে তাদের হামলার পাল্টা জবাব দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, আরাকান আর্মির ছোড়া বিস্ফোরক আশ্রমের গাছে আঘাত করেছে।

তবে আরাকান আর্মির এক মুখপাত্র ওই হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, নিজেরা বেসামরিক নাগরিক হত্যা করে আরাকান আর্মির ওপর দায় চাপাচ্ছে সেনাবাহিনী।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যদের বেশিরভাগই রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর। মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তারা রাখাইনের আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন দাবি করে আসছে। ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে রাখাইনে আরাকান আর্মির সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে রাখাইনে ঘাঁটি তৈরি করতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছে। চলতি বছর দুই পক্ষের সংঘর্ষে অনেক বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে। বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

/জেজে/এএ/

 

/এএ/

লাইভ

টপ