নাগরিকত্ব বিল: রণক্ষেত্র দিল্লি, জামিয়ার শিক্ষার্থীদের পাশে জনতা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৯:০৬, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২২, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ছেড়ে রাজধানী দিল্লিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার দুপুরে দক্ষিণ দিল্লিতে আইনটির প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা। মুহূর্তের সেই বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করে। শিক্ষার্থীদের সমাবেশে যোগ দেন জনতাও। এক পর্যায়ে শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ। বিক্ষোভ দমনে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। শিক্ষার্থী-জনতার ওপর চলে পুলিশের লাঠিচার্জ। পরে পুলিশ ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধর করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এখবর জানিয়েছে।

বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে সম্প্রতি আইন সংশোধন করেছে ভারত। ১২ ডিসেম্বর রাতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরেই আইনে পরিণত হয়েছে বিতর্কিত বিলটি। তারপর থেকেই সহিংসতা বেড়েছে সমগ্র ভারতে। আসামসহ ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে অবৈধ অবৈধ অভিবাসীদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি বাতিল ও এই অঞ্চলকে ওই আইনের আওতামুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ করছে তারা। এসব অঞ্চলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারিসহ বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ইন্টারনেট ও এসএমএস সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতে সংঘর্ষের পর এবার দিল্লিতে তা ছড়িয়ে পড়ল।

রবিবার জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিক্ষোভ শুরু হয় নিউ ফ্রেন্ডস কলোনিতে। মিছিল নিয়ে বের হলে রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় পুলিশের। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে। বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। তবে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে পুলিশ সদস্যকে আগুন দিতে দেখা গেছে। পুলিশের তাড়া খেয়ে ছাত্ররা ঢুকে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে। এর কিছুক্ষণ পর আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টোদিকের রাস্তায় অবরোধ শুরু করে বিক্ষোভকারীরা।

পুলিশ জানিয়েছে, শুরুতে ১০০-২০০ জনের মতো বিক্ষোভকারী থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। দিল্লির অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ থেকেও ছাত্ররা ওই জায়গায় পৌঁছে যায়। ঘণ্টা খানেকের মধ্যে বড় জমায়েত করে ফেলে ছাত্ররা। স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই জায়গায় বড় বাহিনী মোতায়েন করে দিল্লি পুলিশ।

বিক্ষোভের জেরে ব্যাপক যানজট ছড়ায় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায়। ওখলা থেকে সিতারা বিহার যাওয়ার আন্ডারপাসে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। দিল্লি-মথুরা হাইওয়ে অবরোধের ফলে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয় অন্য রাস্তায়। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় রাজধানীতে।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই আন্দোলন চলছিল। কিন্তু পুলিশের প্ররোচনাতেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জামিয়া মিলিয়ার এক শিক্ষার্থী মিরান হায়দারের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের ভেতরেই চলছিল তাদের প্রতিবাদ সমাবেশ। আচমকাই পুলিশ লাঠিচার্জ করায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফুঁসে ওঠে জনতাও। দেখতে দেখতে প্রতিবাদ সমাবেশ পরিণত হয় বিশাল বিক্ষোভে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন জামিলা মিলিয়ার উপাধ্যক্ষ নাজমা আখতার। তিনি ছাত্রদের অনুরোধ করেন শান্তি বজায় রাখার জন্য। একই সঙ্গে বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরে পা রাখলে তিনি কারোরই নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারবেন না। ফলে, পড়ুয়ারা যেন ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভ না দেখায়। তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে যে বা যারা ক্যাম্পাসের বাইরে পা রাখবে তার সুরক্ষার দায়িত্ব তার নিজের।

বিকেলে পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের উপরে চড়াও হয়। জামিয়ার ক্যাম্পাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। ওই সময় বহু ছাত্রছাত্রী সেখানে পড়াশোনা করছিলেন। তাদের অনেকেই পুলিশের লাঠি ও কাঁদানে গ্যাসে আহত হন। অভিযোগ, শৌচাগারে ঢুকেও শিক্ষার্থীদের ইচ্ছেমতো পিটিয়েছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদেরও বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়। লাইব্রেরির বাইরের ছাত্রছাত্রীদের মাথার উপরে হাত তুলে লাইন দিয়ে হাঁটিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বার করে দেওয়া হয়। জামিয়ার বেশ কয়েক জন ছাত্রছাত্রীকে পুলিশ আটক করে বলে অভিযোগ। পুলিশের এই আচরণে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমরা কি দাগি অপরাধী?’ সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা, এনডিটিভি, দ্য ওয়াল

/এএ/

লাইভ

টপ