মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে জাপান

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২:২৬, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৪, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৯

মধ্যপ্রাচ্যে জাপানি জাহাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ ও টহল বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে টোকিও। দেশটির তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে সেখানকার তথ্য সংগ্রহ করতে একটি হেলিকপ্টার সজ্জিত ডেস্ট্রয়ার ও দুইটি পি-৩সি টহল বিমান মোতায়েনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) দেশটির প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োশিহিদে সুগা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংকটময় মুহূর্ত তৈরি হলে বিপদ থেকে নিজেদের জাহাজের সুরক্ষায় বাহিনীকে অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেবে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইয়োশিহিদে সুগা বলেছেন, ‘জাপানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুবই জরুরি। একারণে মধ্যপ্রাচ্যে জাপানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূ্র্ণ।’

২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানির স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই বছরের নভেম্বর থেকে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল শুরু করে ওয়াশিংটন। এর পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বছরের মে ও জুন মাসে মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে কয়েক বার হামলা হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের ট্যাংকার কোকুকা কারেজিয়াসও রয়েছে। এসব হামলার পর তেহরানকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যে জাপানি জাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তেল উৎপাদন ও পরিশোধকারী সংস্থাগুলো। এক বিবৃতিতে জাপানের পেট্রোলিয়াম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাকাশি সুসুকোকা বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনিশ্চিত। আমরা বিশ্বাস করি, এই সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে জাহাজগুলোর নিরাপদ যাত্রায় উপকৃত হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জাপান ইরানের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলে। গত সপ্তাহে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি টোকিওতে সফরের সময় দেশটির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাপানি জাহাজগুলো ওমান উপসাগর, আরব সাগরের উত্তরাঞ্চল ও এডেন উপসাগর অঞ্চলে টহল দেবে। তবে সেগুলো হরমুজ প্রণালীতে অবস্থান নেবে না।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী মাস থেকে টহল বিমানগুলো যাতে অভিযান শুরু করতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। আর ফেব্রুয়ারি থেকে ডেস্ট্রয়ারের অভিযান শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

/এইচকে/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ