লিবিয়া সংকট নিয়ে এরদোয়ান-পুতিনের সঙ্গে আলোচনা ম্যার্কেলের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৩৯, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫০, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯

লিবিয়া সংকট নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। দুই নেতার সঙ্গে আলাদা ফোনালাপে কূটনৈতিকভাবে বিদ্যমান সংকট উত্তরণের উপায় নিয়ে কথা বলেন জার্মান নেতা। সোমবার জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র এ ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
লিবিয়া পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, লিবিয়া পরবর্তী সিরিয়ায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

লিবিয়া সরকারের অনুরোধে সম্প্রতি দেশটিতে সেনা মোতায়েনে সায় দেয় তুর্কি কর্তৃপক্ষ। তবে এজন্য তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এরদোয়ান জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য পার্লামেন্ট অধিবেশনে এ ইস্যুতে ভোটাভুটি করা হবে।

জাতিসংঘ স্বীকৃত লিবিয়ার গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল অ্যাকর্ড (জিএনএ) সরকারের অনুরোধে দেশটিতে সেনা পাঠাতে যাচ্ছে তুরস্ক। মূলত বিদ্রোহী নেতা খলিফা হাফতারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তুর্কি বাহিনীকে পাশে চাইছে লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। অন্যদিকে খলিফা হাফতারকে সরর্থন দিচ্ছে রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর।

বার্লিনে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, লিবিয়ায় তুর্কি সেনা পাঠানোর পরিকল্পনায় তার দেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং সংকট উত্তরণে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানান। এমন সময়ে তিনি এ আহ্বান জানালেন যার দুই দিন আগেই ত্রিপোলির দক্ষিণে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা খলিফা হাফতারের বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে লিবিয়ার সরকারি বাহিনী। শনিবার ত্রিপোলি বিমানবন্দরের কাছেই ভলকানো অব রেজ অপারেশন নামের এ অভিযান শুরু হয়।

ভলকানো অব রেজ অপারেশন-এর মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, হাফতারের সমর্থনে লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও রাশিয়া। তবে লিবীয় বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে। তারা হাফতার বাহিনীর কাছ থেকে কয়েকটি ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। একটি সামরিক যান ও কয়েকটি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করা হয়েছে। সরকারি বাহিনীর একজন সদস্য আশরাফ আল মাহজৌবি। তিনি বলেন, আজ আমরা অগ্রসর হয়েছি। শত্রুরা (হাফতার বাহিনী) পরাজিত হয়েছে। তারা পালিয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, জীবনযাপনের মানের দিকে থেকে তেলসমৃদ্ধ লিবিয়া একসময় আফ্রিকার শীর্ষে ছিল। স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা ছিল পুরোপুরি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে যে রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ওই ঐশ্বর্য নিশ্চিত করেছিল, সেটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় ২০১১ সালে যখন পশ্চিমা সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন হয়। তারপর থেকে লিবিয়ায় চলছে সীমাহীন সংঘাত। গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার পর ত্রিপোলিতে জাতিসংঘ সমর্থিত একটি মনোনীত সরকার রয়েছে। ওই কর্তৃপক্ষকে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার বা জিএনএ নামে অভিহিত করা হয়। তবে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হাতে রয়ে গেছে। পশ্চিমাঞ্চলে জিএনএ-র কর্তৃত্ব থাকলেও পূর্ব ও দক্ষিণের বেশিরভাগ অঞ্চল হাফতার বাহিনী এলএনএ-এর দখলে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে এ বাহিনী লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।

/এমপি/

লাইভ

টপ