‘ট্রাম্প চুক্তি’ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:২৮, জানুয়ারি ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩০, জানুয়ারি ১৫, ২০২০

পরমাণু ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তার বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে প্রস্তাবিত ‘ট্রাম্প চুক্তি’ নাকচ করে তেহরান। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ওই চুক্তিকে ‘উদ্ভট’ আখ্যা দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। আর বুধবার ট্রাম্পের চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের কাছে ইউরেনিয়াম প্রকল্প সীমিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ইরান। চুক্তি অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর নভেম্বরে থেকে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল শুরু করে ওয়াশিংটন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই চুক্তির প্রতিশ্রুতি থেকে পর্যায়ক্রমে সরে যায় তেহরান। সবশেষ ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর ওই চুক্তি পুরোপুরি না মানার ঘোষণা দেয় ইরান।

সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে ছয় জাতির করা ওই চুক্তির বিকল্প হিসেবে ‘ট্রাম্প চুক্তি’ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। এরপর মঙ্গলবার ওই চুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘মহান চুক্তিকারী’ আখ্যা দিয়ে তার প্রশংসা করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ট্রাম্প বলেছেন, ‘ট্রাম্প চুক্তি’টি ইরানের পরমাণু চুক্তির প্রতিস্থাপন হতে পারে।

তেহরানের দাবি হচ্ছে, আগে তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হোক। রুহানি বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কী ভেবে এমনটা বলেছেন, তা আমি জানি না। তিনি (বরিস) বলছেন, পরমাণু চুক্তিকে একপাশে রেখে ট্রাম্পের পরিকল্পনা কার্যকর করতে। আপনি যদি ভুল পদক্ষেপ নেন, তাহলে আপনারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পরমাণু চুক্তিতে ফিরে এসে সঠিক পথ গ্রহণ করুন।’

ইরানের ওপর থেকে যত দ্রুত সম্ভব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহ্যার না করা হলে তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুহানি। মঙ্গলবার ওই চুক্তির ব্যাপারে বৃটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি এমন এক পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে তেহরানের ওপর আবারও জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এজন্য ওই পদক্ষেপকে ‘কৌশলগত ভুল’ আখ্যা দিয়েছে রুহানি।

ইউরোপীয় শক্তিধর দেশগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার এড়াতে কাজ করছে তারা। আর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ইরানের অর্থনীতিকে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে তাদের সমালোচনা করেছেন রুহানি।

আর বুধবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যমান চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তাই এটা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছিলাম, তারা ভঙ্গ করেছে। এখন যদি আমাদেরকে ‘ট্রাম্প ডিল’ নামে আরেকটা চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়, তাহলে ওটার স্থায়িত্ব কতোদিন হবে?’

ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী না হলেও কূটনৈতিক পথে চলমান সংকটের সমাধানে আগ্রহী তেহরান। জারিফ বলেছেন, ‘সেরা চুক্তিগুলোর মধ্যে বিদ্যমান পরমাণু চুক্তিটাই সবচেয়ে ভাল। এটা মেনে এগিয়ে চলতে হবে।’

ইউরোপীয় তিন দেশের পাঠানো চিঠির জবাবে তেহরান বলেছে, ‘ছয় জাতির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি এখনও শেষ হয়নি।’ তবে ট্রাম্পের নতুন সম্পাদিত চুক্তি কতোদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

/এইচকে/বিএ/

লাইভ

টপ