কেন গণতন্ত্র সূচকে ভারতের ১০ ধাপ অবনতি?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:৩৯, জানুয়ারি ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪০, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

২০১৯ সালের গণতন্ত্র সূচকে ১০ ধাপ অবনতি হয়েছে ভারতের। ২০০৬ সালের পর থেকে কখনও দেশটির এতোটা অবনতি হয়নি। তাহলে এবার কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো? সূচকটি যারা তৈরি করেছে সেই ইকনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের মতে, ভারতের অবনতির মূল কারণ তিনটি। জম্মু-কাশ্মির, নাগরিকপঞ্জি ও নাগরিকত্ব আইন। সেই সূত্র ধরেই নাগরিক অধিকার দমনের ঘটনা ঘটেছে।
সূচকে মোট ১০ পয়েন্টের মধ্যে ভারতের স্কোর ৬ দশমিক ৯। সব মিলিয়ে ১৬৫টি রাষ্ট্র ও দুইটি অঞ্চলের মধ্যে দেশটির অবস্থান ৫১।

দিল্লির জন্য আরও অস্বস্তির বিষয় হচ্ছে, ইকনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট জানিয়েছে, ২০২০ সালে গণতন্ত্রের সূচকে ভারত আরও নামবে। কারণ গত ডিসেম্বরে দেশটির পার্লামেন্টে মুসলিমবিদ্বেষী নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাস হয়েছে। এখন তা আইনে পরিণত হয়েছে। এই আইন বিভেদকামী বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সারা বিশ্বে ৫৪টি দেশের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা খারাপ হয়েছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। তালিকায় এক নম্বরে আছে নরওয়ে। জার্মানি ১৩ নম্বরে, বাংলাদেশ ৮০, পাকিস্তান ১০৮, চীন ১৫৩ ও দক্ষিণ কোরিয়া ১৬৭ তম স্থানে আছে।

ভারতের রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশজুড়ে বিষাক্ত প্রচার চালাচ্ছেন। তারা ছাত্রদের কন্ঠস্বর রুদ্ধ করে দিতে চাইছেন। কোনও প্রতিবাদই তারা বরদাশত করতে রাজি নন। পার্লামেন্টসহ সব প্রধান প্রতিষ্ঠানকে হত্যা করতে চাইছেন। সব চেয়ে বড় কথা, যে গণতান্ত্রিক ধারণা ও মূল্যবোধ, যা আমরা স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে পেয়েছি, তাকেও নষ্ট করে দিতে চাইছেন। পশ্চিমবঙ্গ দেশকে দেখিয়ে দিয়েছে, কিভাবে সিএএ নিয়ে প্রতিবাদ করতে হয়। দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীরা সরকারের ওপর ক্রুদ্ধ। এ রকম অবস্থা হলে সরকার কতটা সংকটে পড়ে তা সবাই জানেন।'

ভারতজুড়ে শিক্ষার্থীরা সিএএ, এনআরসি-র প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। যেভাবে জামিয়া, আলিগড়, জেএনইউতে বিক্ষোভ দমন করা হয়েছে তার প্রতিবাদ হচ্ছে। ছাত্রদের ক্ষোভ বাড়লে তার প্রভাব পড়ে।

প্রবীণ সাংবাদিক ও পিইউডিআর নেতা আশিস গুপ্ত বলেন, 'আমার ফোন তো সরকার ট্যাপ করে। ভারতে কার কার ফোন ট্যাপ করা হয়, তা নিয়ে কানাডার সংস্থা তালিকা দিয়েছিল। তার মধ্যে আমার নামও ছিল। আর নাগরিক আন্দোলন দমন করার চেষ্টা আগের আমলেও হয়েছে। আন্দোলনে লাঠি, গুলি চলেছে। কিন্তু পরে তারা কিছু দাবি মেনে নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলনের ফলে সরকারের সিদ্ধান্তে বদল এসেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার অনড় মনোভাব নিয়ে চলছে। ফলে গণতন্ত্র সূচকে ভারত আরও নিচে নামতে পারে।'

২০১৯ সালের শেষ দিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে পুরো ভারতে বিক্ষোভের আগুন জ্বলেছে। ধর্মীয় বৈষম্যপূর্ণ ওই আইনের বিরুদ্ধে সব ধর্মের লোকজন একত্রিত হয়ে আন্দোলন করছেন। এক সপ্তাতেই ঝরেছে অন্তত ২৩টি তাজা প্রাণ।

বিজেপি অবশ্য এই সমীক্ষার স্বচ্ছ্বতা নিয়ে, বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেছেন, 'কিছু পশ্চিমা সংস্থা এই ধরনের সমীক্ষা করে। তাদের স্বচ্ছ্বতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। আমি যা দেখেছি, কাশ্মিরের জন্যই মূলত ভারত নিচে নেমে এসেছে। ওদের মনে রাখতে হবে, কাশ্মিরে ৪৫ হাজার মানুষ সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে। সরকার সেখানে স্বাভাবিকতা আনার জন্য কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। তাতেই আপত্তি ওই সংস্থার। এটা দুর্ভাগ্যজনক।' তবে এই বিজেপি নেতাও প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন, কাশ্মিরে সাময়িকভাবে সরকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর বিধিনিষেধ চাপিয়েছিল।

সায়ন্তন বলেন, 'এক মাসের জন্য কাশ্মিরে খুবই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু সরকার কোথাও গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ব্যবস্থার ওপর হাত দিচ্ছে, এমন উদাহরণ নেই।' কিন্তু সুপ্রিম কোর্টই সম্প্রতি কাশ্মীরে ইন্টারনেট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছিল, নেট পরিষেবা পাওয়া লোকের মৌলিক অধিকার। যখন তখন, যত্রতত্র ১৪৪ ধারা জারিকে ঔপনিবেশিক শাসনের কথা মনে পড়িয়ে দেয় বলেও জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। উত্তর প্রদেশে এখনও বারবার করে অভিযোগ উঠছে, জোর করে সেখানে প্রতিবাদ থামাবার চেষ্টা হচ্ছে। সে কারণে এই রিপোর্ট দিল্লির মোদি সরকারের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সূত্র : ডয়চে ভেলে।

/এমপি/

লাইভ

টপ