‘জঙ্গিবাদ নির্মূল ক্যাম্প’ নির্মাণের ঘোষণায় কাশ্মিরে আতঙ্ক

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:৩৬, জানুয়ারি ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৫৫, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

ভারতের নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষা প্রধান (সিডিএস) জেনারেল বিপীন রাওয়াত জম্মু-কাশ্মিরে ‘জঙ্গিবাদ নির্মূল ক্যাম্প’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। গত সপ্তাহে দিল্লির এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন ক্যাম্প পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অনেকেই মনে করেছেন, এই ক্যাম্প হবে উইঘুর মুসলমানদের জন্য বানানো চীনা বন্দি শিবিরের মতো। তার এই মন্তব্যে ভীতি ছড়িয়েছে কাশ্মিরে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।

সিডিএস বিপিন রাওয়াতের বিতর্কিত মন্তব্য এই প্রথম নয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিকরণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনেকেই মনে করেন, ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজপি) প্রতি তার আনুগত্য তাকে ভারতের প্রথম সিডিএস হিসেবে নিয়োগ পেতে সহায়তা করেছে।

গত সপ্তাহে দিল্লিতে সাংবাদিক ও বিদেশি প্রতিনিধিদের এক অনুষ্ঠানে জেনারেল বিপিন রাওয়াত বলেন, ‘কাশ্মিরে আমরা কী ঘটতে দেখছি। দেখছি জঙ্গিবাদ হচ্ছে। এমন কিছু মানুষ আছে যারা পুরোপুরি জঙ্গিবাদী হয়ে গেছে। এসব মানুষদের আলাদা করে ফেলা দরকার, তাদের জঙ্গিবাদ নির্মূল ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার দরকার। আমাদের দেশে জঙ্গিবাদ নির্মূল ক্যাম্প পরিচালনা দরকার’।

রাওয়াতের মন্তব্যে কাশ্মিরিদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, জিনজিয়ান প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে চীন যে ব্যবহার করছে ভারতও তাদের সঙ্গে তা করতে চায়। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, দশ লাখেরও বেশি উইঘুর মুসলিমদের আটককেন্দ্রে রেখেছে চীন। বেইজিং এসব কেন্দ্রকে ‘পুনঃশিক্ষা কেন্দ্র’ বলে অভিহিত করেছে। চীন সরকারের দাবি, ধর্মীয় উগ্রবাদ নিরসনে ভূমিকা রাখছে এসব কেন্দ্র।

কাশ্মিরের শ্রীনগরভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক নুর আহমেদ বলেন, ‘ভারতের উচিত হবে না চীনকে অনুসরণ করা কারণ ভারত নিজেদের সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশ দাবি করে’।

গত ৫ আগস্ট কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিল করে দিল্লি। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র সেখানে বন্ধ করে দেওয়া হয় সব ধরনের যোগাযোগ। পাঁচ মাস পর বেশিরভাগ এলাকায় মোবাইল পরিষেবা খুলে দেওয়া হলেও এখনও সেখানে বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট।

নুর আহমেদ বলেন, ‘কাশ্মির একটা রাজনৈতিক ইস্যু, সেখানে জঙ্গিবাদের মতো কিছু নেই। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এমনটি কাম্য নয়। কাশ্মির রাজনৈতিক সমস্যা এবং এর সমাধান হওয়া উচিত রাজনৈতিক।’

এদিকে বিপিন রাওয়াতের দাবি নিশ্চিত করে ভারতের এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কাশ্মিরে প্রথম জঙ্গিবাদ নির্মূল কেন্দ্র চালু হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মির পুলিশ বিভাগ একটি জঙ্গিবাদ নির্মূল কেন্দ্রের ধারণা উপস্থাপন করেছে যাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। তবে এখনও তা স্থাপন করা হয়নি।’

এই ধরনের ক্যাম্প স্থাপনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কাশ্মিরের পুলিশ প্রধান দিলবাগও সিং। তিনি বলেন, ‘কাশ্মিরে এই ধরনের স্থাপনা হলে তা শুভ লক্ষণ হবে, এটি হওয়া উচিত। এমন কেন্দ্র অবশ্যই মানুষকে সহযোগিতা করবে, বিশেষ করে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।’

তবে কাশ্মিরের রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাফর চৌধুরী কাশ্মিরে জঙ্গিবাদ তত্ত্বের সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, ‘আমি কাশ্মিরের সমস্যাকে উগ্রবাদের আয়না দিয়ে দেখি না’। তিনি আরও বলেন, ‘তারা (কাশ্মিরি তরুণরা) প্রতারিত হয়েছে, বহুবার রাজনৈতিক নেতারা তাদেরকে প্রতারিত করেছেন, আর প্রচলিত ব্যবস্থার প্রতি তাদের এই আস্থাহীনতাকে সামরিক বাহিনী ও অন্যরা জঙ্গিবাদ বলে অভিহিত করছে’।

 

/জেজে/এএ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ