করোনা ভাইরাস: বাস্তব পরিস্থিতি গোপন করছে চীন?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:৩১, জানুয়ারি ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩৬, জানুয়ারি ২৬, ২০২০

চীন সরকারের দাবি অনুযায়ী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এখনও দুই হাজার ছাড়ায়নি। তবে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজে মাস্ক পরিহিত এক নারী নিজেকে উহান শহরের চিকিৎসাকর্মী দাবি করে বলেছেন, দেশটিতে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, সরকারি পদক্ষেপের অপর্যাপ্ততা নিয়ে ওঠা সমালোচনা দমন করা হচ্ছে।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে উৎপত্তি হওয়া করোনা ভাইরাস ইতোমধ্যেই রাজধানী বেইজিংসহ ২৯টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, এই ভাইরাসের কবলে পড়ে নিহত হয়েছে ৫৬ জন। শনাক্তকৃত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৮৫ জন। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা আরও দুই হাজার ৬৮৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। শনিবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পরিস্থিতিকে গুরুতর আখ্যা দিয়েছেন।

তবে প্রকৃত অবস্থা আরও বেশি ভয়াবহ। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে নাম প্রকাশ না করে এক নারী বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের শুরু যেখানে আমি সেখানে আছি। সত্য প্রকাশে হাজির হয়েছি আমি। এই মুহূর্তে উহানসহ হুবেই প্রদেশে এমনকি চীনেই ৯০ হাজার মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে’।

ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রাথমিক অবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বচ্ছতার জন্য চীন প্রশংসা পায়। তবে এখন সমালোচকরা দাবি করছে, বাস্তব পরিস্থিতি উঠে আসতে পারে, এমন ভিডিওগুলোতে ঘষামাজা করছে সরকারি কর্মকর্তারা।

নার্স পরিচয় দেওয়া ওই নারীর ভিডিওটি ইউটিউবে ২০ লাখেরও বেশিবার দেখা হয়েছে। ওই ফুটেজে তিনি মানুষদের ঘরের বাইরে না যাওয়া এবং চীনা নববর্ষ উদযাপন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনির বলেন, এখন এই ভিডিওটি যারা দেখছেন তাদের প্রত্যেককেই বলতে চাই বাইরে যাবেন না। উৎসব করবেন না। বাইরে খাবেন না। বছরে একবার আমরা চীনা নববর্ষ উদযাপন করি। এখন যদি আপনি নিরাপদ থাকেন তাহলে আগামী বছর আবারও পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।

ওই নারী বলেন, ‘সরকার কী বলছে তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিয়ে আপনাদের বলছি। সবাই দয়া করে উহানে মাস্ক, চশমা এবং কাপড় পাঠান। বাস্তবতার সাপেক্ষে আমাদের সম্পদ পর্যাপ্ত নয়’।

এই ভিডিওটি সামনে আসলেও অনলাইনে বিভিন্ন নাগরিকদের পোস্ট করা অন্য ভিডিওগুলো মুছে ফেলা হচ্ছে। একটি ভিডিওতে সাদা কাপড়ে ঢাকা তিনটি মরদেহের পাশে অসুস্থ মানুষদের বসে থাকতে দেখা যায়। চীনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম উইবোতে ভিডিওটি প্রকাশের পর মুছে দেওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে প্রকাশ্যে বিরল ভিন্নমত প্রকাশ করেন ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পরিচালিত হুবেই প্রাদেশিক সংবাদপত্রের এক সিনিয়র সাংবাদিক। উইবোতে এক পোস্টে হুবেই প্রদেশের দলীয় নেতৃত্বে অবিলম্বে বদল আনার আহ্বান জানান। পরে ওই পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

বিপরীতে রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র পিপলস ডেইলি একটি ভিডিও প্রকাশ করে যাতে আরোগ্য লাভ করা এক রোগীকে চার চিকিৎসাকর্মীর সঙ্গে শান্তির চিহ্ন দেখাতে দেখা যায়। তবে পিপলস ডেইলির পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস-এ মাস্ক, চশমাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরজ্ঞামের ঘাটতির কথা উঠে এসেছে।

সমালোচকদের দাবি, যে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে করোনা ভাইরাসের বিপদ সম্পর্কে সরকারকে সচেতন করতে পারতেন তাদের হয় আটক করা হয়েছে নয়তো তাদের গবেষণা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ তারা চীনের শাসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন না।

২০০২-০৩ সালে সার্স (সেভার একিউট রেসপাইরেটরি সিনড্রোম) সংক্রমণের সময়েও চীন সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠে। ওই সময়ে আক্রান্তদের খবর কেবল বহির্বিশ্বের কাছেই নয় বরং নিজ দেশের জনগণের কাছেও গোপন করে চীন সরকার। রোগে আক্রান্তের খবর সংবাদপত্রে প্রকাশ নিষিদ্ধ করা হয়। এর পরিবর্তে জনগণকে ভীত না হতে আশ্বস্ত করে সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া বিবৃতি প্রকাশ করতে বলা হয়।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ