চীনা জীবাণু অস্ত্রের পরীক্ষাগার থেকেই ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৫৪, জানুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২১, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

ইসরায়েলের একজন সামরিক গবেষক ড্যানি শোহাম দাবি করেছেন, চীনের এক গবেষণাগার থেকে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। তার দাবি, ওই গবেষণাগারে গোপনে জৈব রাসায়নিক অস্ত্র বানায় বেইজিং।

ড্যানি শোহাম ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দাবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা। চীনের জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বব্যাপী জীবাণু ও রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে ইসরায়েলের কর্মসূচির উচ্চপদস্থ বিশেষজ্ঞ ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার শোহাম। তার দাবি, জৈব রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির গোপন কর্মসূচি চলা একটি ইনস্টিটিউট থেকে প্রাণীবাহী করোনা ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে নতুন করোনা ভাইরাসটি ইতোমধ্যেই সে দেশের রাজধানী বেইজিংসহ ২৯টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, নেপাল, ফ্রান্স, সৌদি আরব, কানাডাসহ অন্তত ১২টি দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে।

ড্যানিকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন টাইমস দাবি করেছে, করোনা ভাইরাসগুলো নিয়ে গবেষণা করা হয় ওই গোপন পরীক্ষাগারে। সার্সধর্মী ভাইরাস নিয়ে গবেষণাও চীনের জৈব রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। বড় আকারের এই কর্মসূচি বেশ কয়েকটি ধাপে পরিচালনা করা হয়।

গত সপ্তাহে পুরোনো এক প্রতিবেদন সামনে এনে রেডিও ফ্রি এশিয়া জানায়, ভাইরাস নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে চীনের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির গবেষণাগারটি হচ্ছে উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি। প্রতিষ্ঠানটিতে মরণঘাতী ভাইরাস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা চালানো হয় বলে ইতোমধ্যে স্বীকার করেছে চীন। আর এই শহরটি থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে।

ওয়াশিংটন টাইমসকে ড্যানি শোহাম আরও বলেন, ‘ইবোলা, নিপা এবং ক্রিমিয়ান-কঙ্গো হেমোরজিক ফিভার ভাইরাস নিয়ে গবেষণায় জড়িত ছিল উহান ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল বায়োসেফটি ল্যাবটি। ইনস্টিটিউটটি চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সের অধীনে হলেও সামরিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জৈব রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত।’

চীন অবশ্য বিতর্কিত জৈব অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। জৈব রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে নতুন করোনা ভাইরাসটির উৎপত্তি কিনা, জানতে চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চীনা দূতাবাসের কাছে ইমেইল পাঠালেও কোনও উত্তর পায়নি ওয়াশিংটন টাইমস।

চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা এই ভাইরাসের উৎস সম্পর্কে কিছু জানে না। চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকার বিষয়ক কেন্দ্রের পরিচালক গাও ফু বলেন, উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এই রোগ ছড়িয়েছে। উহান ইনস্টিটিউট সার্স ভাইরাসের মতো করেই করোনা ভাইরাসের গবেষণা করছে। এছাড়া রাশিয়ায় তৈরি জৈব অস্ত্র অ্যানথ্রাক্স নিয়েও গবেষণা করেছে তারা। শোহামের দাবি, সার্স ভাইরাসও চীনের জৈব অস্ত্র তৈরির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট।

জৈব অস্ত্র কনভেনশন

ভাইরোলজি ইনস্টিটিউট চীনের একমাত্র ‘পাথোজেন লেভেল ৪’ চিহ্নিত গবেষণাগার। এর মানে হচ্ছে এই ইনস্টিটিউটে গবেষণা করা অণুজীব যেন না ছড়ায় সেই ব্যবস্থা আছে তাদের। জুলাইয়ে ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ইনস্টিটিউটের জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে শোহাম দাবি করেন, চীনের যে চারটি গবেষণাগারে জৈব অস্ত্র তৈরি হয়, উহান তার মধ্যে একটি। তার দাবি, উহান ন্যাশনাল বায়োসেফটি ল্যাবরেটরিতে ইবোলা, নিপাহ ও ক্রিমিয়ান কঙ্গো ভাইরাস নিয়ে গবেষণা হয়েছিলো।

১৯৯৩ সালে চীন উহানকে দ্বিতীয় জৈব অস্ত্র গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৮৫ সালে জৈব অস্ত্র কনভেনশনে স্বাক্ষর করে চীন।

গত বছর প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন জৈব অস্ত্র উন্নয়নে জড়িত থাকতে পারে। সেখানে বলা হয়, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্যমতে চীন এই সময়ে জৈব রাসায়নিক গবেষণা দ্বিমুখী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে যা জৈব অস্ত্র কনভেনশন অনুযায়ী উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্র চীনের সামরিক মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান রেখে বলছে, এমন গবেষণা জৈবিক হুমকি তৈরি করে।’ তবে রাটজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট রিচার্ড এব্রিট বলেন, এই মুহূর্তে আসলে বলা সম্ভব নয় যে এই করোনা ভাইরাস গবেষণাগারে উৎপন্ন হয়েছে কি না।

/এমএইচ/বিএ/

লাইভ

টপ