অস্ট্রেলিয়ায় বুলডোজার চাপায় মারা পড়লো দুই ডজন কোয়ালা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:০৪, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৫, ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২০

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রদেশে বুলডোজার চাপায় মারা পড়েছে দুই ডজন কোয়ালা। গত তিন মাস ধরে ভয়াবহ দাবানলে হাজার হাজার কোয়ালা মারা যাওয়ার পর নতুন করে এ ঘটনা সামনে এলো। রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

কোয়ালা মৃত্যুর ঘটনায় সর্বপ্রথম সোচ্চার হন হেলেন ওয়াকলেই নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা। তিনি গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিওর মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সেখানে অনেক কোয়ালা মরে পড়ে আছে। মা কোয়ালা ও তাদের বাচ্চারা মারা গেছে। এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার লজ্জিত হওয়া উচিত। আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করি।’

বিবিসি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিক্টোরিয়া প্রদেশের একটি বনাঞ্চলে সম্প্রতি বেশকিছু গাছ কাটা হয়েছিল। পরে সেখানে কিছু কোয়ালার মরদেহের সন্ধান মেলে। এছাড়া বেশকিছু প্রাণীকে আহত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেগুলোকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে পরিবেশবাদীরা।

ক্যাঙ্গারুর মতো কোয়ালাও অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব প্রাণী। দেশটির জনগণের অত্যন্ত প্রিয় এই প্রাণীটি গত তিন মাস ধরে চলা দাবানলের কারণে বাসস্থান বনাঞ্চল হারিয়ে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। ওই প্রাণীর আবাসস্থল হচ্ছে ব্লু গাম নামের এক ধরনের গাছ। গত ডিসেম্বরে ভিক্টোরিয়া প্রদেশে ওই ব্লু গাম গাছের একটি বনাঞ্চল কাটা হয়। ঠিকাদাররা গাছ কাটার পরও সেখানে কিছু গাছ ছিল। এখনও সেখানে রয়ে গেছে গাছের কিছু গোড়ার অংশ। সেখানে কিছু ক্ষেত্রে গাছ থাকলেও মারা গেছে কোয়ালাগুলো। আর কিছু গাছ থাকা স্থানে বুলডোজার দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে। পরে বেঁচে যাওয়া আহত ৮০টির মতো স্থানান্তরিত করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এনভায়রনমেন্টাল গ্রুপ ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ অস্ট্রেলিয়া বলছে, ‘ডিসেম্বরে গাছ কাটার পরও সেখানে শত শত কোয়ালা এসেছিল। তবে লোকজন দেখেছে, বুলডোজার দিয়ে সেগুলোকে মেরে ফেলতে।’ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির পরিবেশ, ভূমি, পানি ও পরিকল্পনা বিভাগ জানিয়েছে, কোয়ালা মৃত্যুর ঘটনায় বিচার শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা অ্যানিমেলস অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ‘এসব মূল্যবান প্রাণীদের সুরক্ষা দিতে আমরা ঘটনাস্থলে তদন্ত দল পাঠিয়েছে। আমরা সেখানে কী ঘটেছিল তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। সম্ভবত সেখানে অ্যানিমেলস অ্যাক্টসহ (প্রাণী সুরক্ষা আইন) অন্যান্য আইন লঙ্ঘন করে এসব কাজ করা হয়েছে। আমরা আইন অনুযায়ী বিচার করতে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা দেবো।’

দেশটির পরিবেশ বিভাগের অ্যান্ড্রু প্রিটচার্ড বলেন, ২৫টি কোয়ালা মারা হয়েছে। তিনি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিকে জানিয়েছেন, জীবিত কোয়ালাগুলোকে অন্য স্থানে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

গাছ কাটার বিষয়ে কোম্পানির স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে লগিং ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর ব্লু গাম গাছগুলো কাটা হয়েছে। প্রাণী সুরক্ষার সব আইন মেনে ঠিকাদারকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। অ্যানিমেলস অ্যাস্ট্রেলিয়া বলছে, সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় তদন্ত চলছে।

দ্য অস্ট্রেলিয়ান ফরেস্ট প্রোডাক্টস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ঠিকাদাররা চলে যাওয়ার পর বাকি গাছগুলো কাটা হয়েছে। এই বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ওই সংস্থার প্রধান নির্বাহী রস হ্যাম্পটন সংবাদমাধ্যম দ্য এজকে বলেন, ‘কোয়ালা থাকা অবস্থায় কারা গাছগুলোয় বুলডোজার ব্যবহার করেছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে এটা নিশ্চিত যে, বৃক্ষরোপণ বা বনায়ন কোম্পানিগুলো নয়। দুষ্কৃতিকারীদের আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের সহায়তা দিবো আমরা।’

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণত গ্রীষ্মকালে তাপদাহের কারণে জঙ্গলে দাবানল হয়। স্থানীয়রা একে বলে থাকে বুশফায়ার। এই দাবানল কতটা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, টেলিভিশনের পর্দায় মাঝেমধ্যেই উঠে আসে তার করুণ চিত্র। আগুনের এই রোষের মুখে অসহায় হয়ে পড়ে মানুষ। কখনও সংলগ্ন এলাকা থেকে মানুষজনকে উদ্ধার করা অথবা দাবানলের পথে গাছ কেটে আগুন থামানোর চেষ্টাতেই অবলম্বন খোঁজে স্থানীয়রা। সরকারিভাবে বিমান থেকে বিশেষ তরল মিশ্রণ ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টাও করা হয়। তবে সে প্রচেষ্টা সব সময় সফল হয় না। বুশফায়ার বা দাবানলপ্রবণ এলাকায় জনবসতি তুলনামূলক কম থাকে। ফলে লোকজনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কিছুটা কম হয়। তবে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া বিভিন্ন দাবানলে প্রচুর গাছ ও জীবজন্তুর প্রাণহানি ঘটেছে। বাস্তুবিদদের আশঙ্কা, ওই সময় অন্তত ৫০ কোটি পশু-পাখির প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

/এইচকে/এমপি/

লাইভ

টপ