‘গুলি মারো’র মতো মন্তব্য করা উচিত হয়নি: অমিত শাহ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৩:২৮, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩০, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতাদের একাংশ বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন বলে স্বীকার করে নিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই ধরনের মন্তব্যের কারণে নির্বাচনে দলের জয়ের সুযোগ ব্যাহত হয়ে থাকতে পারে।বিজেপির সাবেক সভাপতি ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

গত ১১ ফেব্রুয়ারি দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে রাজ্যের ৭০ আসনের মধ্যে ৬২টিতে জয় পায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। আর বাকি আটটিতে জেতে বিজেপি প্রার্থীরা। অথচ এবারের নির্বাচনি প্রচারে দলটি ২৭০ জন সাংসদ, ৭০ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্য নেতার বিশাল বহর নামায়। ফলাফল হিসেবে আগের বারের তিন আসন বেড়ে এবার আটটি হলেও বিজেপি নেতাদের নানা ধরনের বিদ্বেষী বক্তব্য সমালোচনার জন্ম দেয়।

দিল্লির ভোটের ফল ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘কেউ বলতে পারে না যে, স্ত্রী ও মেয়েদের ধর্ষণের শিকার হতে হবে। আবার গুলি মারো, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এমন ধরনের মন্তব্যও করা উচিত হয়নি। এসব বক্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে দল’। তিনি বলেন, ‘(দলে) সব ধরনের কর্মী আছে, তারা হয়তো কিছু বলেছে কিন্তু জনগণ জানে দলটি (বিজেপি) কেমন। তবে দলের বাইরের চেহারাটা তেমন হয়নি। একারণেও হয়তো আমাদের ভুগতে হয়েছে। ভোটাররা কেন ভোট দেয়নি তা হয়তো আমরা সুনির্দিষ্টভাবে জানতে পারিনি কিন্তু এটাও হয়তো একটা কারণ’।

ভারতের অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর অভিযোগ বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে সীমা অতিক্রম করা নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বিজেপি। তবে অনুরাগ ঠাকুরসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নির্বাচন কমিশন।

বিজেপির সাবেক সভাপতি অমিত শাহ বলেন, ‘দিল্লির নির্বাচনে যে কয়টি আসন পাবো বলে ধারণা করেছিলাম তা হয়নি’। তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমাদের দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিততে পারতো। তবে এটা মেনে নিতে আমার সমস্যা নেই... বেশিরভাগ সময় আমার হিসাব সঠিক হয়েছে, তবে এইবার তা হয়নি’। দলের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, দিল্লির নির্বাচনি প্রচারণায় বিজেপি নেতাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা শাহিনবাগের বিক্ষোভকারীরা। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরসহ দলটির বেশ কয়েক জন নেতা তাদের নিয়ে বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন। ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে শাহিনবাগের বিক্ষোভকারীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে তাদের ওপর গুলি চালানোর আহ্বান জানিয়ে দেওয়া স্লোগানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরকে উস্কানি দিতে দেখা যায়। আবার উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও দলটির তারকা প্রচারক যোগী আদিত্যনাথও ‘বিশ্বাসঘাতকদের’ মোকাবিলায় গুলি ব্যবহারের তাগিদ দেন। এছাড়াও দলটির আইনপ্রণেতা পারভেশ ভার্মা বলেন, ‘(শাহিনবাগে) লাখ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছে। তারা আপনাদের ঘরে ঢুকে পড়বে, আপনাদের বোন ও মেয়েদের ধর্ষণ করবে, মেরে ফেলবে। আজ হয়তো মোদি ও অমিত শাহ আপনাদের রক্ষা করছেন কিন্তু আগামীকাল আর তারা আসবেন না। ফলে দেখেশুনে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিন’।

 

/জেজে/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ