চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০১:০০, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০০, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

চীনে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। রবিবার তৃতীয় দিনের মতো নতুন রোগীর সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন। কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন নতুন করে দুই হাজার নয় জনের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৪৬১ জন।
এখন পর্যন্ত চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ হাজার ৫০০ জন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৬৫ জনে।

স্বাস্থ্য কমিশনের হিসাবে, শনিবার দেশটির মূল ভূখণ্ডে আরও দুই হাজার নয়জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৪১।

রবিবার চীনে আক্রান্ত ১৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের অধিকাংশই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। এই হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকেই গত বছরের শেষ দিক থেকে করোনা ভাইরাস ছড়াতে শুরু করে।

নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি বলেছেন, ‘সার্বিকভাবে এই মহামারীকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ’

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েছে চীন। আর এ প্রক্রিয়া ছিল খুবই সমন্বিত। বেইজিং মনে করে, চীন ছাড়া অন্য কারও পক্ষে এর চেয়ে ভালোভাবে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

এদিকে চীনের বাইরে তাইওয়ানে করোনা ভাইরাসে প্রথমবারের মতো একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে তিনি ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী চেন শিহ-চুং বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৬০ বছরের ওই ব্যক্তি পেশায় একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার ছিলেন। শ্বাসকষ্ট শুরু হলে গত ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী চেন শিহ-চুং জানান, মৃত ব্যক্তির পরিবারের আরও একজন সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

চীনে ইতোমধ্যেই করোনা ভাইরাসের উপসর্গ গোপন করাকে ফৌজদারি অরপাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একইসঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করলে তার মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন আদালত। এমনকি ভ্রমণের তথ্য গোপন করলে তা-ও ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বেইজিং ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেউ ভাইরাসটি ছড়াতে সহযোগিতা করলে তাকে মানুষের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলার অপরাধে অভিযুক্ত করা হবে। গুরুতর ক্ষেত্রে নির্দেশনা অমান্যকারীদের ১০ বছরের জেল ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। শনিবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনও একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে জ্বর, কাশি অথবা অন্য কোন রোগে আক্রান্তদের সড়ক, রেল কিংবা বিমানে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। একপর্যায়ে এই ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৮টি দেশে শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস। এতে কেবল চীনে মারা গেছে এক হাজার ৬৬৫ জন। আর আক্রান্ত হয়েছে ৬৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। সূত্র: আল জাজিরা, স্ট্রেইট টাইমস।

/এমপি/

লাইভ

টপ