চীনে দাড়ি ও বোরকার জন্যও বন্দি করা হয় উইঘুরদের!

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:৩৩, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪৩, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

চীনে হাজার হাজার সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও নির্যাতনের নতুন দলিল ফাঁস হয়েছে। এসব দলিলে জিনজিয়াং অঞ্চলে তিন হাজারের বেশি উইঘুরের দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় খুঁটিনাটিসহ ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ১৩৭ পৃষ্ঠার সে দলিলের প্রতিটি পৃষ্ঠায় ভিন্ন ভিন্ন ছক তৈরি করা হয়েছে। এসব ছকে ওই ব্যক্তিরা কতবার নামাজ পড়েন, কী পোশাক পরেন, কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে বিস্তারিত লেখা রয়েছে। এমনকি দাড়ি ও বোরকার জন্যও লোকজনকে বন্দি রাখার নজির মিলেছে।
চীন সরকার অবশ্য বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বেইজিং-এর দাবি, জিনজিয়াং-এ তারা যেসব ব্যবস্থা নিচ্ছে সেগুলো আসলে সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় উগ্রপন্থা মোকাবেলায় নেওয়া পদক্ষেপের অংশ।

কিভাবে পাওয়া গেছে এসব দলিল?

এসব দলিল অত্যধিক ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছে। গত বছর জিনজিয়াং অঞ্চলের যে সূত্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি নথি পাওয়া গিয়েছিল, এবারও সেই সূত্রের মাধ্যমেই নতুন দলিলপত্র পাওয়া গেছে। জিনজিয়াংয়ে চীনা নীতির একজন বিশেষজ্ঞ ড. অ্যাড্রিয়ান জেনজ। ওয়াশিংটনে ভিক্টিমস অব কম্যুনিজম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের এই সিনিয়র ফেলো মনে করেন, ফাঁস হওয়া এসব দলিল নির্ভরযোগ্য।

ড. অ্যাড্রিয়ান জেনজ বলেন, ‘এসব দলিল আমার দেখা এ পর্যন্ত সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ যে, চীনের সরকার কিভাবে ধর্মীয় বিশ্বাস ও চর্চার কারণে মানুষকে শাস্তি দিয়ে চলেছে।’ দলিলে পাওয়া ক্যাম্পগুলোর একটি 'নাম্বার ফোর ট্রেনিং সেন্টার' যেখানে গত বছরের মে মাসে জিনজিয়াংয়ে চীন সরকার আয়োজিত এক সফরে বিবিসির একটি দল গিয়েছিল। সে সময় বিবিসি-র দলটির পাওয়া অনেক তথ্য উপাত্তের সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে নতুন এসব দলিলে। সেখানকার অনেক মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে বিবিসি তখন অনেক তথ্য সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছিল।

কী আছে দলিলে

নতুন দলিলে সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের ৩১১ জন মানুষের ব্যাপারে ব্যাপকভিত্তিক অনুসন্ধানের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে তাদের পূর্ব ইতিহাস, ধর্মীয় আচার পালনের দৈনন্দিন রুটিন, স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে এতে।

রিপোর্টের শেষ কলামে আটককৃত উইঘুরদের বন্দিশিবিরে আরও রাখা হবে নাকি তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে অথবা আগে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এমন কাউকে আবার বন্দিশিবিরে ফিরিয়ে আনতে হবে কিনা এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

নতুন এসব দলিলের মাধ্যমে এসব ক্যাম্পকে এতদিন সাধারণ স্কুল বলে চীন যে দাবি করে আসছিল তা ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রাপ্ত দলিল বিশ্লেষণ করে ড. জেনজ বলছেন, এসবের মাধ্যমে ওখানে চলা সিস্টেমের ব্যাপারে ধারণা যেমন পাওয়া যায়, তেমনি ক্যাম্পে থাকা মানুষের 'আদর্শিক ও মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো' অনুযায়ী তাদের বিভক্ত করে পর্যালোচনার ব্যাপারেও ধারণা পাওয়া যায়।

বোরকা পরা, পাসপোর্ট করতে চাওয়ায় বন্দিশিবিরে

৫৯৮ নম্বর সারিতে একটি কেস রয়েছে, যেখানে হেলচেম নামের ৩৮ বছরের একজন নারীকে কথিত ‘রি-এডুকেশন ক্যাম্প’ নামের বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়েছে। ওই নারীর ‘অপরাধ’ কয়েক বছর আগে তিনি বোরকা পরতেন। এটি অতীতের ঘটনার কারণে এবং নিয়ম বহির্ভূত শাস্তির একটি উদাহরণ মাত্র। অন্যদের মধ্যে কেউ আছেন, যাদের কেবল পাসপোর্টের আবেদন করার কারণে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় যে, কোনও উইঘুর মুসলিম দেশের বাইরে বেড়াতে যেতে চাইলে সেটিকেও কর্তৃপক্ষ উগ্রপন্থার লক্ষ্মণ হিসেবে বিবেচনা করে। ৬৬ নম্বর কলামে, মেমেত্তটি নামে ৩৪ বছর বয়সী একজন যুবক ঠিক এই কারণে বন্দি হয়েছেন, যদিও দলিলে উল্লেখ আছে তার কাছ থেকে 'বাস্তবসম্মত কোনও ঝুঁকি' নেই।

২৩৯ নম্বর সারণিতে দেখা যায়, নুরমেমেট নামে ২৮ বছর বয়সী একজনকে রি-এডুকেশন কার্যক্রমে পাঠানো হয়েছে। তার অপরাধ, একটি ওয়েব লিংকে ক্লিক করার মাধ্যমে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি বিদেষি ওয়েবসাইটে চলে গিয়েছিলেন। তার আচরণ নিয়েও কোনও অভিযোগ নেই বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। যে ৩১১ জন ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তারা সবাই জিনজিয়াংয়ের দক্ষিণে কারাকাক্স কাউন্টি নামের একটি শহরের বাসিন্দা, যেখানকার ৯০ শতাংশ মানুষ উইঘুর সম্প্রদায়ের।

উইঘুর জাতিগোষ্ঠীর বেশিরভাগই মুসলমান। তাদের মুখাবয়ব, ভাষা এবং সংস্কৃতির সঙ্গে চীনের প্রধান জাতিগোষ্ঠী হান-দের চেয়ে বরং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সাদৃশ্য বেশি। তবে গত কয়েক দশকে লাখ লাখ হান চাইনিজ জিনজিয়াংয়ে বসতি গড়ে তুলেছে। এরপর থেকে ক্রমেই সেখানে এক ধরণের জাতিগত উত্তেজনা তৈরি হয়। উইঘুরদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এমন আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই সেখানে বিক্ষোভ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। তবে বেইজিং এসব বিক্ষোভ ‘কঠোরভাবে দমন’ করে থাকে।

উইঘুর এবং জিনজিয়াংয়ের অন্য সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়গুলো যেমন কাজাখ এবং কিরগিজ সম্প্রদায়ের লোকেরা সরকারের দমন নীতির টার্গেটে পরিণত হয়েছে। তাদের ধরে নিয়ে বন্দিশিবিরগুলোতে পাঠানো হচ্ছে।

ফাঁস হওয়া নতুন দলিলগুলোকে ড. জেনজ নাম দিয়েছেন 'কারাকাক্স তালিকা'। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয় যে চীনের কর্তৃপক্ষ এখন যে কোনও ভিন্নমতকেই আনুগত্যহীনতা মনে করছে। আর সেই 'আনুগত্যহীনতা' দূর করার জন্য সরকার উইঘুরদের বাড়িঘর এবং অন্তরের ভেতরে পরিবর্তন আনতে চায়।

কর্তৃপক্ষ কিভাবে এসব অনুসন্ধান চালায়

২০১৭ সালে উইঘুর মুসলমানদের জন্য যখন কর্তৃপক্ষ বন্দিশিবির চালু করে, তখন ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কিছু বিশ্বস্ত কর্মী উইঘুর সমাজের ভেতরকার তথ্য বের করে আনার কাজটি করে। তারা প্রত্যেকে কয়েকটি করে বাড়ির দায়িত্ব নেয়। তারা সেসব বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতে থাকে, ‘বন্ধুত্ব’ করে এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্য সম্পর্কে নোট নেয়। তাদের জীবনাচরণ, ধর্ম বিশ্বাস, বাড়িতে ধর্ম চর্চার পরিবেশ অর্থাৎ কী কী আচার পালিত হয়, বাড়িতে কয়টি কোরআন শরিফ আছে? এমন সব বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে তারা।

দলিলের ১১ নম্বর কলামে প্রত্যেক ব্যক্তির পারিবারিক সম্পর্ক এবং সমাজে কাদের সঙ্গে তারা উঠাবসা করে তার উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় চীনা কর্তৃপক্ষ কিভাবে জিনজিয়াংয়ের মানুষজনকে এমনকি বন্ধুর অপরাধের কারণেও দোষী সাব্যস্ত করা এবং পুরো পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের সূত্র ধরে শাস্তি দিয়ে যাচ্ছে।

চীনের গোপন বন্দিশিবির

দলিলে উল্লিখিত প্রত্যেকের আত্মীয় ও বন্ধুদেরও পূর্ব ইতিহাস অনুসন্ধান করা হয়েছে। অর্থাৎ তাদেরও ধর্ম বিশ্বাস ও চর্চা, কখনও বিদেশে গেছেন কিনা কিংবা কখনও বন্দিশিবিরে ছিলেন কিনা—এমন খুঁটিনাটি তথ্যও রিপোর্টে যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দেখা গেছে তালিকাভুক্ত প্রায় সবারই আত্মীয়স্বজন বিদেশে থাকেন। আর বিদেশে থাকাকে কর্তৃপক্ষ যে কোনও উইঘুরের আনুগত্যহীনতার সম্ভাব্য কারণ বলে মনে করে।

রিপোর্টের ১৭৯, ৩১৫ এবং ৩৪৫ নম্বর সারণীতে ৬৫ বছর বয়সী ইউসুফ নামের এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার দুই মেয়ে ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে বোরকা পড়তেন এবং ছেলের ইসলামি রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই পুরো পরিবারটির 'হ্যান বিরোধী মূল্যবোধ' রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ক্ষেত্রে রায় দেওয়া হয়েছে, তার 'সংশোধন' প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে। এটি অন্যতম একটি উদাহরণ যে, কেবল নিজের জন্য নয়, বরং পরিবারের জন্যও শাস্তি পেতে হচ্ছে মানুষকে।

গ্রাম পর্যায়ের দল থেকে সংগ্রহ করা তথ্য জিনজিয়াংয়ের মূল তথ্য ভাণ্ডার, যা ইন্টিগ্রেটেড জয়েন্ট অপারেশনস প্ল্যাটফর্ম আইজেওপি নামে পরিচিত সেখানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এই আইজেওপি-র কাছে থাকে ওই অঞ্চলের নজরদারি এবং পুলিশি কর্মকাণ্ডের রেকর্ড। এটি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত বিস্তৃত এক নেটওয়ার্ক এবং প্রত্যেক নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে যে মোবাইল স্পাইওয়্যার ডাউনলোড করতে হয় তার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

ড. জেনজ মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আইজেওপি এসব তথ্য যাচাই করে। এখান থেকেই গ্রামের অনুসন্ধান দলের কাছে নির্দেশনা পাঠায় কাদের ওপর নজরদারি চালাতে হবে।

ফাঁস হওয়া দলিলে অনেকের নামের শেষে 'অবিশ্বস্ত' বিশেষণ যুক্ত করা হয়েছে। মোট ৮৮ জন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটিকে বন্দিশিবিরে রাখার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ড. জেনজ বলছেন, এ তথ্য প্রমাণ করে যে, কর্তৃপক্ষ এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে যা অপরাধের জন্য নয়, বরং একটি পুরো অঞ্চলের মানুষকে সন্দেহমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য চিহ্নিত করা হচ্ছে।

চীন কী বলছে?

চীন বলছে, জিনজিয়াংয়ের নীতিতে নাগরিকের প্রতি 'সম্মান এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস চর্চার স্বাধীনতা' নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে ‘ভোকেশনাল ট্রেনিং’ নামে যে প্রকল্প চালু আছে, সেটি 'সন্ত্রাসবাদ এবং ধর্মীয় উগ্রপন্থা'র বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ। যারা সন্ত্রাস ও ধর্মীয় উগ্রপন্থা সংক্রান্ত কোনও অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত, এসব শিবিরগুলোতে তাদেরই কেবল 'সংশোধন' করা হচ্ছে।

দলিলে দেখা গেছে, কারাকাক্স তালিকায় বন্দিশিবিরে রাখার জন্য বিবিধ কারণ দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে ধর্মীয়, পাসপোর্ট, পরিবার, বিদেশে যোগাযোগ কিংবা অবিশ্বস্ত হবার মত কারণের উল্লেখ রয়েছে। তবে এর মধ্যে চীনের পরিবার পরিকল্পনা নীতি অমান্য করার কারণে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে বন্দিশিবিরে রাখার কথা বলা হয়েছে।

তালিকায় সন্ত্রাস ও ধর্মীয় উগ্রপন্থার মত অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল এমন ছয় ব্যক্তির নাম রয়েছে। দুইজন আছেন যারা ‘নিষিদ্ধ ভিডিও’ দেখেছেন। তবে ২০১৮ সালে উইঘুর মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর থেকে চীন সরকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।

দলিলের সত্যতা

নতুন ফাঁস হওয়া এই কারাকাক্স তালিকায় কর্তৃপক্ষের কোনও স্ট্যাম্প বা কোনও সরকারি চিহ্ন নেই। ফলে কেবল তালিকা দেখে এর সত্যতা নিশ্চিত করা কঠিন। ধারণা করা হয়, গত বছর জুনের শেষ দিকে আরও কিছু স্পর্শকাতর দলিলের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ সরকারি নথি জিনজিয়াংয়ের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নির্বাসনে থাকা বেনামি একজন উইঘুর নেতার কাছে পাঠানো হয় সেগুলো। কেবল এই একটি দলিল, যা এখন ফাঁস হলো সেটি তখন পাঠানো হয়নি।

জুনে সেসব দলিলের প্রথম অংশ প্রকাশিত হবার পর, আমস্টারডামে বাসকারী আরেকজন নির্বাসিত উইঘুর আসিয়ে আব্দুলাহেবের কাছে সেগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

আসিয়ে আব্দুলাহেব বিবিসিকে নতুন পাওয়া নথির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তিনি নিশ্চিত যে নতুন প্রকাশিত দলিলটি 'জেনুইন' অর্থাৎ আসল। তার ভাষায়, ‘কাগজপত্রের ওপর স্ট্যাম্প থাকুক আর না থাকুক, যে মানুষদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তারা সব আসল, বাস্তবের মানুষ। সুতরাং এটি আসল দলিল।’

২০১৮ সালে জানা যায়, জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলমানদের 'সংশোধনের' জন্য পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ বন্দিশিবির গড়ে তোলে চীনের কর্তৃপক্ষ। বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে পড়ে পরে চীন ক্রমাগত দাবি করতে থাকে, সেগুলো বন্দিশিবির নয়, বরং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। গত বছরের শেষদিকে বেইজিং ঘোষণা দেয়, তাদের সেই কথিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে থাকা শিক্ষার্থীরা সবাই গ্র্যাজুয়েট অর্থাৎ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে কেউ কেউ 'স্বেচ্ছায়' সেখানে আরও কিছুদিন থাকবেন বলেও উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ।

কারাকাক্স তালিকার ৩১১ জনের মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষকেই ইতোমধ্যেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তালিকায় ২৫ জনের বেশি মানুষকে বন্দিশিবির থেকে মুক্তি দিয়ে শিল্প পার্কে কর্মসংস্থানের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে তালিকার দুইটি ক্ষেত্রে বন্দিশিবির থেকে জেলখানায় পাঠানোর কথা উল্লেখ রয়েছে। সূত্র: বিবিসি।

/এমপি/

লাইভ

টপ