চীন থেকে লোকজনকে ফেরানোর প্রতিবাদে ইউক্রেনে বিক্ষোভ, ভাঙচুর

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৩:৫০, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০০, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে চীন থেকে নিজেদের নাগরিকদের ফেরানোর প্রতিবাদে ইউক্রেনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার চীন ফেরত ৪৫ ইউক্রেনীয় ও ২৭ বিদেশিকে ছয়টি বাসে করে রাজধানী কিয়েভের দক্ষিণে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে দেশটির নাগরিকরা। তাদের আশঙ্কা, চীন থেকে ফেরা ব্যক্তিদের মাধ্যমে ইউক্রেনে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইতোমধ্যেই চীন থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নিয়েছে বিশ্বের বহু দেশ। এ তালিকায় বাংলাদেশ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, জার্মানি, রাশিয়া, কানাডা প্রভৃতি দেশের নাম রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে বিক্ষোভকারীরা শুধু বিক্ষোভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা চীন ফেরতদের বহনকারী বাসে পাথর নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। সড়কে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের চেষ্টায় ওই এলাকার রাস্তা খালি করা সম্ভব হয়।

চীন ফেরতদের কিয়েভের দক্ষেণে নোভি সানঝরি এলাকায় একটি হাসপাতালে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

দেশটির নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বলে দাবি করা একটি ভুয়া ইমেইল অ্যাড্রেস থেকে লোকজনকে মেইল করে বলা হয়েছে, চীন ফেরত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের দেহে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইউক্রেনে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কারও এ  ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানানো হয়নি। তবে ভুয়া মেইল পেয়ে লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ও ভাঙচুর চালায়।

চীন ফেরত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে শুক্রবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোরিয়ানা স্কলেটস্কা। এ সময়ে স্কাইপি ও ফোনের মাধ্যমে তিনি মন্ত্রণালয় পরিচালনা করবেন। চীন ফেরতদের কেউই অসুস্থ নয় বলেও জানান তিনি।

এদিকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের হুবেই প্রদেশে বৃহস্পতিবার এ ভাইরাসে আরও ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্য কমিশনের নিয়মিত বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৩৩। এছাড়া বৃহস্পতিবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৪১১ জন। ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৯৮৭।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে হুবেই প্রদেশ থেকে ভাইরাসটি ছড়াতে শুরু করে। চীনের স্বাস্থ্য কমিশন প্রতিদিনই আক্রান্ত ও নিহতের তথ্য প্রকাশ করছে। প্রকাশিত সেই তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জানুয়ারির পর থেকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) আগ পর্যন্ত কোনও দিনই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজারের নিচে নামেনি। গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো তা নেমে এসে টানা তিন দিন অব্যাহত থাকে। তবে বৃহস্পতিবার নতুন আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য বেড়েছে।

এর আগে জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসিস বলেন, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকা উৎসাহব্যঞ্জক। তবে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে কিনা তা বলার সময় আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা এই প্রবণতায় উৎসাহ পাচ্ছি কিন্তু আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই।’

পাকিস্তানের করাচিতে নিযুক্ত চীনের কনস্যুলেট জেনারেল বলেছেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে বলে মনে করেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা। মার্চের শেষ নাগাদ ভাইরাসটির সংক্রমণ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা।

/এমপি/

লাইভ

টপ