বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:২৯, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩১, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আগেই মহামারি আকার ধারণ করেছে চীনে। আর দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ইরানে ব্যাপকহারে সংক্রমিত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ওই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আতঙ্ক বাড়ছে। এতে বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়তে পারে আশঙ্কা বাড়ছে। 

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সহজে যখন সংক্রমণ হয় তখন মূলত মহামারি আকার ধারণ করে। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারে দরপতন হচ্ছে।

চীন বলছে, আগামী মাসে জাতীয় পিপলস কংগ্রেসের অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক সম্মেলন স্থগিত করবে কর্তৃপক্ষ। করোনা ভাইরাস ঠেকাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯৭৮ সাল থেকে প্রতি বছর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে দেশটিতে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অন্তত ২৬শ’ মানুষ মারা গেছে আর আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ৭৭ হাজার জন। এছাড়াও কমপক্ষে ৩০টি দেশে আরও ১২শ’ জন করোনাতে আক্রান্ত হয়েছে। আর মারা গেছে অন্তত ২০ জন। ইতালিতে সোমবার মারা গেছে তিনজন; এ নিয়ে মোট ছয়জন।

সিওভিআইডি-১৯ নামের ওই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ বা ২ শতাংশ হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, এখনও প্রকৃত মৃত্যুহার জানা যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে ইরাক, আফগানিস্তান, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনে প্রথম সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। যারা সম্প্রতি ইরান থেকে সেসব দেশে গেছেন বা ইরানিদের সংস্পর্শে ছিলেন। বাহরাইনের কর্তকর্মরা বলছেন, দেশটিতে এক স্কুল বাস চালক করোনাতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর সেখানে বেশ কয়েকটি স্কুল বন্ধ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক ড. টেড্রোস অ্যাধনম ঘেরিবাইসাস সতর্ক করেছেন, করোনা ভাইরাসের মহামারি ঠেকানোর সুযোগ ক্রমেই ‘ছোট’ হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের ইস্ট অ্যাঙ্গলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগের অধ্যাপক পল হান্টার বলেছেন, চীনের বাইরে দ্রুত করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়াটা ‘খুবই উদ্বেগজনক।’

ডব্লিউএইচও’র মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বিবিসিকে বলেছেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতিটা মহামারি বলে মনে হচ্ছে না। কারণ অনেক দেশ ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই মুহূর্তে যদি দেশগুলো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয় তাহলে দেখা যাবে সংক্রমণের সংখ্যা বহুগুণে বেড়ে গেছে। এটা মহামারি ঠেকানোর একমাত্র মাধ্যম।’

দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালিতে বর্তমানে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে চীনের যোগসূত্র না থাকা সত্ত্বেও ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। চীনের সঙ্গে ইতালি বিভিন্ন পর্যায়ে যোগযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।

ইরানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, সেখানে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। ইরান থেকে যাওয়া লেবাননের এক পর্যটকের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরী দিয়াগুর একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী ও একটি হাসপাতাল থেকে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। এরপর সেখানে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করে কর্তৃপক্ষ।

ইউরোপের মধ্যে ইতালিতে করোনাতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। লম্বার্ডি ও ভেনেতো অঞ্চলের অনেক শহরে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ। আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বিশেষ অনুমতি ছাড়া প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা এলাকা ছাড়তে পারবে না। সেখানে অনেক ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইতালিতে সোমবার অন্তত তিনজন মারা গেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশটিতে কীভাবে ওই ভাইরাস প্রবেশ সে সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি।

সোমবার করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল উহানের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে, যদি তাদের শরীরে ওই ভাইরাসের কোনও উপসর্গ দেখা না যায়। পরে তাদের কথা প্রত্যাহার করে কর্তৃপক্ষ।

রবিবার ইরান জানিয়েছে, সে দেশে অন্তত ৬০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে। চীনের বাইরে এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

/এইচকে/বিএ/

লাইভ

টপ
X