উত্তর প্রদেশের আগ্নেয়াস্ত্র ও ভাড়াটে বাহিনী ব্যবহার করে দিল্লিতে সহিংসতা!

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:১৪, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১১, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

দিল্লিতে হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডবে আহত বহু মানুষ এখন হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন। এদের কেউ কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। কেউ কেউ আবার ধারালো অস্ত্র, পাথরের আঘাত বা পুড়ে যাওয়া ক্ষত নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। আহত এসব ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা দেশীয় পিস্তল, তলোয়ার, হাতুড়ি, লাঠি ও বড় বড় পাথর নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশের ধারণা দিল্লির তাণ্ডবে উত্তর প্রদেশ থেকে আনা দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন মুখোশধারী হামলাকারীও হিন্দুস্থান টাইমসকে জানিয়েছে যে তারা উত্তর প্রদেশ থেকে দিল্লিতে এসেছে। 

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ঘিরে বিক্ষোভ নিয়ে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণাবাদী বক্তব্য দেন বিজেপি নেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার সহিংসতায় উসকানি ছড়ান দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। এরপরই দিল্লির পূর্ব অংশে শুরু হয় নজিরবিহীন সহিংসতা। বুধবার পর্যন্ত এই সহিংসতায় নিহত হয় ২৭ জন। গভীর রাতে সহিংসতায় নিহত হয় আর পাঁচ জন।

সহিংসতায় আহতদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা নিচ্ছে গুরু ত্যাগ বাহাদুর হাসপাতাল ও জগ পারভেশ চন্দ্র হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত নিহত ২৭ জনের ১৪ জনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগর ও শামলির মতো এলাকা থেকে দিল্লিতে এসে হামলায় অংশ নিয়েছে অনেকে। দিল্লির জাফরাবাদের মধ্যমসারির এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘দিল্লি-উত্তর প্রদেশ সীমান্তের অংশ বিশেষ রবিবারই (২৩ ফেব্রুয়ারি) বন্ধ করে দেওয়া উচিত ছিলো। ৪০ ঘণ্টারও বেশি তাণ্ডব চলার পর শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই সীমান্ত বন্ধ করা হয়েছে। সীমান্ত বন্ধ করার পর প্রথম দিনে তাণ্ডব আর বাড়েনি। দিল্লিতে ব্যবহৃত হওয়া সব অবৈধ পিস্তল বাইরে থেকে আনা হয়েছে’।

পুলিশি রেকর্ডেও দেখা গেছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির অপরাধী চক্রের হাতে সহজেই অস্ত্র পৌঁছায়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের পর থেকে উত্তর প্রদেশের মিরাট, শামলি ও মুজাফফরনগরের মতো পশ্চিমাংশে একটি দেশীয় অস্ত্র বিক্রি হয়েছে তিন থেকে পাঁচ হাজার রুপিতে। আর এসব এলাকায় অটোমেটিক পিস্তল বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার রুপিতে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়া সবচেয়ে বেশি যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো পাথর। পাথরের আঘাতে মারা যান দিল্লি পুলিশের হেড কনেস্টবল রতন লাল (৪২)। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অমিত শর্মার মাথায়ও পাথরের আঘাত লেগেছে। পাথর নিক্ষেপে বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এমন বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলার সময়ে ট্রাক ভর্তি করে আনা হয়েছে পাথর। মৌজপুরের এক বাসিন্দা রবিবার রাতে বলেন, 'তারা সবাই বহিরাগত। আমরা তাদের ভিডিও ধারণ করেছি। এটা ছিল পরিকল্পিত হামলা'।

সহিংসতাকবলিত জাফরাবাদ নতুন সড়কের রোড ডিভাইডার ভেঙে ফেলে পাথর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া রাস্তার বেড়া খুলে রড বের করে হামলা চালানো হয়েছে। দিল্লির তাণ্ডবে ব্যবহার হয়েছে তলোয়ার ও পেট্রোল বোমাও। চান্দ বাগ এলাকাতে হামলাকারীরা বেশিরভাগই পেট্রোল বোমা ব্যবহার করেছে। পুলিশের বিশ্বাস স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ খালি বোতল সংগ্রহ করে হামলাকারীরা।

তিন দশক ধরে দিল্লিতে কাজ করেছেন সাবেক ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এলএন রাও। দিল্লির তাণ্ডবের অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, উত্তর-পূর্ব এলাকার তরুণদের বড় একটি অংশই বেকার। তিনি বলেন, এসব তরুণেরা মানুষের কাছে ডাকাতি করতে ধারালো অস্ত্র ও ছুরি ব্যবহার করতে দ্বিধা করে না।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ