সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির জন্য কী হারালেন এরদোয়ান?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:০৯, মার্চ ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৩, মার্চ ০৮, ২০২০

সিরিয়ার ইদলিবে সংঘর্ষ থামাতে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করতে মস্কো যাওয়ার বেশ কিছুদিন আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান সিরীয় সরকারি বাহিনীকে হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছিলেন, পিছু হটো, না হলে 'ঘাড়ে মাথা থাকবে না'।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ছয় ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর বিষণ্ন এরদোয়ান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করেছেন। যাতে রাশিয়া সমর্থিত বাহিনী ইদলিবে তুর্কি সমর্থিত বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত কিছু ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে।

রাশিয়া থেকে ফিরে এরদোয়ান বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইদলিবে স্থিতিশীলতা ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেবে। অন্যথায় এসব মানুষ তুরস্কে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন নিয়ে এসেছে।

চুক্তি বাস্তবায়িত হলে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীর অগ্রযাত্রা থেমে যাবে। এতে আঙ্কারার সবচেয়ে বড় ভয় বোমা হামলার মুখে সিরীয় শরণার্থীদের ঢল নামবে। এরইমধ্যে তুরস্কে ৩৬ লাখ সিরীয় শরণার্থী অব্স্থান করছেন। কিন্তু সম্মুখযুদ্ধ থামলেও ইদলিবের পূর্ব-পশ্চিম মহাসড়কে তুর্কি-রাশিয়ার যৌথ টহল মেনে নেওয়ায় যুদ্ধের ময়দানে আসাদবাহিনীর জয় নিশ্চিত হলো এবং আগের চেয়ে ইদলিবের ভেতরে রাশিয়া প্রবেশ করতে পারবে।

তুরস্ক ও রাশিয়ার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, সিরিয়ায় অতীতের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মতো এটিও স্বল্পমেয়াদি হবে।

জার্মান মার্শাল ফান্ডের ওজগুর আনলুহিসারসিকি বলেন, সিরীয় সেনাবাহিনী থেমেছে কিন্তু পিছু হটেনি। হয়তো এটিই তুরস্কের বড় হার। তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি চূড়ান্ত নয়, এটি সাময়িক। আসন্ন দিনে যেকোনও সময় আবার সংঘর্ষ শুরু হতে পারে।

আসাদবাহিনীর এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইদলিব দিয়ে যেসব মহাসড়ক গিয়েছে সেগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। এসব মহাসড়কের মাধ্যমে আলেপ্পোসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরের সঙ্গে রাজধানী দামেস্কর যোগাযোগ গড়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার মস্কোয় স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে পুতিন ও আসাদের জন্য জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুতিন সমর্থক সাবেক এক আইনপ্রণেতা সের্গেই মারকভ বলেন, এই চুক্তি অপ্রত্যাশিতভাবে রাশিয়া ও সিরিয়ার পক্ষে গেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার জয়ী হওয়ার কারণে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে জয় আসছে।

কার্নেগি ইউরোপের ভিজিটিং স্কলার ও সাবেক তুর্কি কূটনীতিক সিনান উলজেন বলেন, সেনাবাহিনীর দুর্বলতা নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসেছে তুরস্ক। যুদ্ধবিরতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কিন্তু এজন্য মূল্য দিতে হয়েছে।

২০১৭ সালের উত্তেজনা প্রশমন চুক্তির আওতায় সিরিয়ার ইদলিবে বেশ কিছু সামরিক ফাঁড়ি স্থাপন করে তুরস্ক। গত কয়েক মাসে এসব ফাঁড়ির চারদিক ঘিরে রেখেছে সিরীয় সেনারা। গত মাসে ইদলিবে মোতায়েন করা অতিরিক্ত ২০ হাজার তুর্কি সেনাদের কাছে থেকে এসব ফাঁড়ি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবারের চুক্তিতে তিন দফা ঘোষণায় এসব ফাঁড়ির ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। কিন্তু এরদোয়ান বলেছেন, এগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং বহাল থাকবে।

ভেতরের এলাকাগুলো আসাদবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় এসব ফাঁড়ির ভূমিকা কী হবে তা স্পষ্ট নয়। উলজেন বলেন, এই চুক্তির ফলে ওই এলাকাটি আসাদ সরকারকে দেওয়া হয়েছে। ফলে ফাঁড়িগুলোর কোনও কাজ নেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ব্যর্থতার পরও এরদোয়ান দেশে চুক্তিটি নিয়ে জনগণের বাহবা পেতে পারেন। কারণ, এতে তুর্কি ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়টির আপাতত সমাধান হয়েছে, অভিবাসীদের ঢল থামানো এবং নিজেদের সেনাবাহিনীর ওপর হামলা বন্ধ হয়েছে।

ওজগুর আনলুহিসারসিকি বলেন, নাগরিকদের জায়গা থেকে দেখলে এই দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ সীমানা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে কেন ভাববে তুর্কি নাগরিকরা? এটি তাদের ভাবনার বিষয় নয়।

 

/এএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ