দ. কোরিয়ায় এক অফিস থেকেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৫০

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:৫৮, মার্চ ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫, মার্চ ১১, ২০২০

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এক অফিস থেকেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৫০ জন। এটি সিউলের একক বৃহত্তম সংক্রমণ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ১০ মার্চ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অফিসটি মূলত একটি কল সেন্টারের কার্যালয়। সাউথ কোরিয়ান সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন দফতরের উপপরিচালক কোয়ান জুন-জেগে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ওই কল সেন্টারের ৪৬ জন কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের চার সদস্যের শরীরে এ ভাইরাসের নমুনা পাওয়া গেছে।

কোয়ান জুন-জেগে জানান, কল সেন্টারটির কর্মীরা অফিসে মাস্ক ব্যবহার করতো না।

স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তারা এখন ওই অফিসের একই ফ্লোরে কাজ করা ২০৭ কর্মীর সবাইকে পরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কল সেন্টারটি যে ভবনে অবস্থিত সোমবার সেটি জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। ভবনের বাসিন্দা ও কর্মীদের পরীক্ষার জন্য নিচ তলায় একটি পরিদর্শন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় এ পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাবে, আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ৫১৩। চীনে যেমন উহান শহরকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হিসেবে দেখা হচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও তেমনি দক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি দুই শহরকে এ ভাইরাস ছড়ানোর সূত্র হিসাবে দেখা হচ্ছে। এ দুই শহর হচ্ছে দেগু ও চোংডো। সন্দেহের তীর গিয়ে পড়েছে ওই অঞ্চলের শিনচিওঞ্জি নামে ক্ষুদ্র একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দিকে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের অধিকাংশই শিনচিওঞ্জি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অনুসারী। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মাধ্যমেই দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যাপকভাবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। দেগু শহরে শিনচিওঞ্জি সম্প্রদায়ের গির্জা সংলগ্ন সড়ক জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে।

বলা হচ্ছে, দেগু ও চোংডোতে এই ধর্মীয় গোষ্ঠীর কয়েকশ সদস্য ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গের কথা জানানোর পর তাদের অনেকের শরীরেই করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়। তারপর থেকে নতুন করে আক্রান্ত যেসব রোগী মিলছে তাদের সিংহভাগই চোংডো শহরের দেনাম নামের একটি হাসপাতালে। এই একটি হাসপাতালেই এখন পর্যন্ত ১১৪ জনের শরীরে এ ভাইরাস পাওয়া গেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার শিনচিওঞ্জি সম্প্রদায়ের নয় হাজারেরও বেশি সদস্যকে পারবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে কীভাবে তাদের মধ্যে এতো মানুষ আক্রান্ত হলেন!

দেগু দক্ষিণ কোরিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম শহর। ২৫ লাখ জনসংখ্যার এই শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাস্তায় মানুষজন বলতে গেলে চোখেই পড়ছে না। লোকজনের ভয়, তাদের শহরের পরিণতি না যেন উহানের মতো হয়। সূত্র: সিএনএন।

/এমপি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ