প্রার্থিতার লড়াইয়ে আরও এগিয়ে গেলেন জো বাইডেন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:২৬, মার্চ ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৫৮, মার্চ ১১, ২০২০

এ বছর অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ করার দৌড়ে আরও এগিয়ে গেলেন প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মঙ্গলবার ছয়টি রাজ্যে ভোটগ্রহণের পর বাইডেনের জয়যাত্রা নিয়ে তেমন কোনও সন্দেহ থাকছে না। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়েছে, বিশেষ করে মিশিগান রাজ্যে ভোটের বিচারে তার জয়ের পর ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়নের পথে কার্যত আর কোনও বাধা থাকবে না।

জো বাইডেন

মিসিসিপি ও মিসৌরি অঙ্গরাজ্যেও শীর্ষে রয়েছেন বাইডেন। বাকি অঙ্গরাজ্যগুলির চিত্র এখন‌ও স্পষ্ট নয়। তবে নর্থ ডাকোটা ও ওয়াশিংটন রাজ্যে বার্নি স্যান্ডার্স জয়লাভ করতে পারেন। গণনার শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল জানা যাবে।

মঙ্গলবারের প্রাইমারির পর উচ্ছ্বসিত বাইডেন এক ভাষণে বলেন, সপ্তাহখানেক আগেও তার প্রার্থিতা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ ঘোর সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। অথচ মরার বদলে যথেষ্ট প্রাণশক্তি দেখা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ‘সুপার টিউজডে' প্রাইমারি পর্বে বাইডেন ১৪টির মধ্যে ছয়টি রাজ্যে জয়লাভ করে অতীতের ব্যর্থতা মুছে ফেলতে পেরেছিলেন। সেই ধাক্কায় বার্নি ছাড়া দলের সব অবশিষ্ট প্রার্থী আসর ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন।

মিশিগান রাজ্যে পরাজয় মেনে নিলে স্যান্ডার্সের পক্ষে মনোনয়নের দৌড়ে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে। প্রথমদিকে নিজের জয়যাত্রা নিশ্চিত করতে পারলেও সুপার টিউজডে পর্বের পর তিনি বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। ছয়টি রাজ্যে মোট ৩৫২ জন ডেলিগেটের মধ্যে যথেষ্ট সমর্থন না পেলে তাকেও সম্ভবত আসর ছেড়ে বিদায় নিতে হবে। এতকাল ব্যাপক সমর্থনের ঢেউয়ের পর এমন পরিস্থিতি স্যান্ডার্স শিবিরের জন্য বেশ বেদনাদায়ক হয়ে উঠছে।

বাইডেনের আচমকা সাফল্যের পেছনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের পাশাপাশি মধ্যপন্থী ভোটারদের সমর্থন কাজ করছে। অন্যদিকে স্যান্ডার্স সমাজতন্ত্র-ঘেঁষা, বামপন্থী, প্রগতিশীল সংস্কারের প্রস্তাব সামনে রেখে কিছু সমর্থককে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছেন। দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা কাঠামোর ব্যাপক সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব রুখতে সাহসী পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এমন ‘ব়্যাডিকাল' মনোভাবের কারণে ডেমোক্র্যাট দলের সব সমর্থক তাঁর প্রতি আস্থা দেখাতে পারছেন না। বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় এমন চিত্র উঠে আসছে।

ব্যর্থতা সত্ত্বেও স্যান্ডার্স প্রাইমারি পর্বে টিকে থাকলে দুই প্রার্থীর মধ্যে কেউই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবেন না বলে অনুমান করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে জুলাই মাসে ডেমোক্র্যাটিক দলের সম্মেলনে ডেলিগেটরা সংকটের মুখে পড়তে পারেন। তার ওপর করোনা ভাইরাসের কারণে দুই প্রার্থীকেই বেশ কিছু জনসভা বাতিল করতে হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাঁদের পক্ষে প্রচার অভিযান চালিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন হয়ে উঠবে। আগামী ১৫ই মার্চ পরবর্তী পর্যায়ে ভোটগ্রহণ পর্বে দুই প্রার্থীর মধ্যে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা। তার আগে টেলিভিশন বিতর্ক অনুষ্ঠানে স্টুডিওতে কোনও দর্শক রাখা হবে না।

/বিএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ