করোনা ভাইরাসদ. কোরিয়া যেভাবে আক্রান্ত দেশগুলোর মডেল হতে পারে?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:১২, মার্চ ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৩, মার্চ ১২, ২০২০

পূর্ব এশিয়ার দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২ মার্চ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার ৮৬৯। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে দেশটির অবস্থান চতুর্থ। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ায় এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৬৬। বিশ্বের অন্য যে কোনও দেশের চেয়ে সেখানে সংক্রমণের তুলনায় মৃত্যুর হার অনেক কম। কিন্তু কিভাবে এটা সম্ভব করেছে দক্ষিণ কোরিয়া? কিভাবে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এশিয়ার এই দেশটি; যা অন্যদের জন্যও মডেল হতে পারে! তবে শুধু মৃত্যুহারই নয়; নতুন সংক্রমণের হারও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

কিভাবে মহামারী মোকাবিলা করছে দক্ষিণ কোরিয়া?

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এর উৎপত্তিস্থল চীনের দেখানো পথে হাঁটেনি দক্ষিণ কোরিয়া। বেইজিং যেখানে উপদ্রুত এলাকা বিচ্ছিন্ন বা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, সেখানে সিউল হেঁটেছে ভিন্ন পথে। দেশটি এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, ভাইরাস মোকাবিলার প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ এবং ব্যাপকভিত্তিক পরীক্ষার ওপর জোর দিয়েছে।

যারই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়েছে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের খোঁজ করা হয়েছে। তাদেরও পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

আক্রান্ত ব্যক্তির ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের মতো ১৪ দিনের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং থেকে পাওয়া তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে পাঠানো হয়েছে। যখনই কেউ একজন আক্রান্ত হয়েছে তার ব্যক্তির মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা লোকজনের কাছে সতর্কীকরণ বার্তা পাঠানো হয়েছে। আক্রান্তদের বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল উভয় এলাকার বাসিন্দারাই এসব বার্তা পেয়েছেন।

সরকারের এই কৌশল নিয়ে অবশ্য ভিন্নমতও ছিল। নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ইস্যুতে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে সরকারি বার্তা পাওয়ায় যখনই কেউ আক্রান্ত হয়েছে ওই এলাকার লোকজনের পক্ষে বাড়তি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করতে ১৩৪ ডলারের মতো খরচ হয়। কিন্তু সন্দেহভাজন রোগীদের বিনা খরচে এই পরীক্ষা করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছেন; এমন ব্যক্তিরাও নিজেদের পরীক্ষার ব্যাপারে উৎসাহী হয়। এর ফলে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়। ফলে এ ভাইরাসের বিস্তার আর খুব দ্রুত বাড়তে পারেনি।

দক্ষিণ কোরিয়া অন্য যে কোনও দেশের চেয়ে বেশি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা করেছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার করে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সংক্রমণের কেন্দ্রস্থলে নতুন সংক্রমণ ঠেকাতে উদ্যোগী হওয়ার সুবিধা পেয়েছে দেশটি।

এতো মানুষকে কিভাবে পরীক্ষা করা হলো?

দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনা ভাইরাসের বিস্তার শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত দুই লাখ ২০ হাজার মানুষকে পরীক্ষা করা হয়েছে। ৫০০টিরও বেশি ল্যাবের মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এখানেও চমক দেখিয়েছে দেশটি। ২০১৫ সালে চীন থেকে উৎপত্তি হওয়ার আরেক প্রাণঘাতী সংক্রমণ সার্স ভাইরাসের সময় টেস্টিং কিট সংকটে ভুগেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে এবার চীনে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হওয়ার পরই এর টেস্টিং কিট তৈরির উপায় বের করার ওপর জোর দেয় সিউল। সেই প্রচেষ্টায় সফল হন বিজ্ঞানীরা। ফলে এ দফায় সেভাবে টেস্টিং কিট সংকটেও পড়তে হয়নি দেশটিকে।

দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্ভাবিত কিট ব্যবহার করে পরীক্ষার ছয় ঘণ্টার মধ্যেই বলে দেওয়া যায়, একজন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা। ক্লিনিকগুলোতে এই কিটের সরবরাহ নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ।

/এমপি/

লাইভ

টপ