করোনা আতঙ্কেও আশাবাদী হওয়ার ৫ কারণ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৩১, মার্চ ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৯, মার্চ ২৩, ২০২০

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিশ্বের মানুষের এক অন্ধকার সময় অতিবাহিত হচ্ছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, শহর ও দেশ শাটডাউনে যাচ্ছে এবং অনেক মানুষকে আইসোলেশনে পাঠানো হচ্ছে। এত সব দুঃসংবাদের মাঝেও আশাবাদী হওয়ার মতো বেশ কিছু কারণ তুলে ধরেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

১। দূষণ হ্রাস

ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে অনেক দেশ লকডাউন হওয়ার ফলে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। চীন ও ইতালিতে রেকর্ড মাত্রায় নাইট্রোজেন ডিঅক্সাইডের পরিমাণ কমেছে। এই রাসায়নিক উপাদানটি বায়ু দূষণ ও উষ্ণতা তৈরি করে। শিল্প-কারখানার কার্যক্রম ও গাড়ির চলাচল কমে যাওয়াতে কমেছে তা।

নিউ গবেষকরা বলছেন, প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে গাড়ি থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা গত বছরের তুলনায় কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

বিমান কোম্পানিগুলো ফ্লাইট বাতিল ও লাখ লাখ মানুষ ঘর থেকে কাজ করার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দূষণের মাত্রা কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

২। স্বচ্ছ ভেনিসের খাল

ইতালির ভেনিস শহরের বাসিন্দারা লক্ষ্য করেছেন শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত খালটি হঠাৎ করে ফাঁকা হয়ে গেছে। এই খালটি উত্তর ইতালিতে পর্যটকদের জনপ্রিয় একটি গন্তব্য ছিল। করোনার বিস্তারে নাটকীয়ভাবে খালটি জলযান শূন্য হয়ে পড়েছে। পানি এতোই স্বচ্ছ হয়ে গেছে যে মাছ দেখা যাচ্ছে খালি চোখে।

৩। মহানুভবতার নিদর্শন

টয়লেট পেপার কেনা নিয়ে হুড়োহুড়ি ও সংঘর্ষের অনেক ঘটনা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটলেও ভাইরাসটির বিস্তারে অনেক মহানুভবতার উদাহরণও সামনে এসেছে।

নিউ ইয়র্কে ৭২ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩০০ স্বেচ্ছাসেবী শহরের প্রবীণ ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত হয়েছেন।

ফেসবুক জানিয়েছে, কয়েক হাজার মানুষ ভাইরাসটি মোকাবিলায় স্থানীয় সহযোগিতা গ্রুপে যোগ দিয়েছেন। একই ধরনের গ্রুপ কানাডাতেও গড়ে উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়ার সুপারমার্কেটগুলো প্রবীণদের জন্য বিশেষ ঘণ্টা চালু করেছে। যাতে করে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীরা শান্তিতে কেনাকাটা করতে পারেন।

বিভিন্ন স্থানের মানুষ অর্থ দান, রেসিপি বিনিময় ও বিভিন্ন ধারণা তুল ধরছেন। স্বেচ্ছা-বিচ্ছিন্ন বয়স্কদের জন্য বার্তা পাঠাচ্ছেন। এছাড়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে খাবার বিতরণকেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।

৪। ঐক্যবদ্ধ পথচলা

কাজের ব্যস্ততা ও বাসা থেকে কাজের ফলে আশেপাশের মানুষের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবোধ অনুভূতি জাগতে পারে। ভাইরাসটি সমাজের সর্বস্তরে প্রভাব ফেলার কারণে বিশ্বের অনেক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

পুরো দেশ লকডাউন হওয়া ইতালিতে মানুষ নিজেদের বারান্দায় মনোবল বাড়াতে গান গেয়েছেন।

দক্ষিণ স্পেনের এক ফিটনেস ইন্সট্রাক্টর একটি অনুশীলন ক্লাস আয়োজন করেছেন অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের মাঝামাঝি স্থানে। তার সঙ্গে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফিটনেস ক্লাসে যোগ দিয়েছেন আইসোলেশনে থাকা মানুষেরা।

অনেকেই এই সুযোগে বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে ফোন, ভিডিও কলের মাধ্যমে সংযোগ গড়ে তুলেছেন। আবার বন্ধুদের গোষ্ঠী অনলাইনে ক্লাব ও পাব সেশন চালু করেছেন মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে।

ভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যকর্মী ও গুরুত্বপূর্ণ সেবায় নিয়োজিতদের গুরুত্ব আলোচনায় এসেছে। লাখো ইউরোপিয়ান তাদের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে করোনা মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতি অভিবাদন জানিয়েছেন। লন্ডনের মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের সহযোগিতায় শিশুদের যত্ন নেওয়ার কাজে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন।

৫। সৃজনশীলতার স্ফুরণ

আইসোলেশনে থাকা লাখো মানুষ এই সুযোগে নিজেদের সৃজনশীলতা কাজে লাগাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা নিজেদের শখের বিস্তারিত জানাচ্ছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পড়া, রান্না, আঁকা ও কাপড় বোনা রয়েছে।

ওয়াশিংটনের ডিসি পাবলিক লাইব্রেরি অনলাইনে ভার্চুয়াল বুক ক্লাব আয়োজন করছে। ইতালির মিশেলিন তারকা পাওয়া শেফ ম্যাসিমো বট্টুরা ইন্সটাগ্রামে কিচেন কোয়ারেন্টিন নামে একটি সিরিজ চালু করেছেন। বাড়িতে আটকে পড়া ভোজন রসিকদের জন্য তিনি বিভিন্ন রেসিপি শেয়ার করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের একজন আর্ট শিক্ষক লাইভ স্ট্রিমে ক্লাস নিচ্ছেন। যেসব শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে পারছে না তাদের বাড়িতে সৃজনশীল হতে উৎসাহ দিচ্ছেন তিনি।

বেশিরভাগ জন সমাগমের স্থান বন্ধ থাকায় শিল্পপ্রেমীরা বিশ্বের বিভিন্ন গ্যালারির ভার্চুয়াল প্রদর্শনী দেখছেন। ফ্রান্সের ল্যুভর কিংবা ভ্যাটিকান মিউজিয়াম ঘরে বসেই দেখার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি অবজারভেটরি ঘরে আটকে পড়া মানুষদের রাতের আকাশ ভ্রমণের সুযোগ করে দিচ্ছে অনলাইনে।

/এএ/

লাইভ

টপ