এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি করোনার নতুন 'হটস্পট'?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:২১, এপ্রিল ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১২, এপ্রিল ০৪, ২০২০

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি ভারতের মুম্বাইয়ের ধারাবিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ৫৬ বছরের কাপড়ের ব্যবসায়ীর দেহে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার দিনই মারা যান। বৃহস্পতিবার বস্তির আরেক ব্যক্তির দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। উভয়েরই বিদেশ ভ্রমণের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু'র এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, এই বস্তিটি করোনার বিস্তারের নতুন হটস্পট হয়ে উঠতে পারে।


ব্রিহানমুম্বাই মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (বিএমসি) ও মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে আয়োজিত তাবলিগ জামাতে অংশ নেওয়া কারও সংস্পর্শে মৃত ব্যক্তি এসেছিলেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার বিদেশ ভ্রমনের কোনও তথ্য নেই।
পুলিশের উপ-কমিশনার নিয়তি থ্যাকার বলেন, মৃত ব্যক্তির ওই এলাকায় আরেকটি বাড়ি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তাবলিগ জামাতের কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাবলিগ জামাতের কয়েকজন সদস্য স্থানীয় মসজিদেও আছেন। আমরা খতিয়ে দেখছি।
৩৫ বছরের চিকিৎসক নিজেই বিএমসিকে ফোন দিয়ে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। একটি বেসরকারি ল্যাবে পরীক্ষার পর করোনায় আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হন তিনি। তাকে রাহেজা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ওকহারে যে হাসপাতালে কাজ করতেন সেখানকার সব কর্মীকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। দুই নার্সের শরীরেও করোনা পরীক্ষা পজিটিভ এসেছে।
এছাড়া বুধবার ওরলির জিজামাতা নগরের ৫২ বছরের আরেক বাসিন্দাও আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ধারাবিতে কাজ করেছেন। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা জানা গেছে তিনি করোনা আক্রান্ত। তাকে সেভেন হিলস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ২৩ জন সহকর্মীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়েছে, এশিয়ার বৃহত্তম এই বস্তি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত পারে। এই বস্তিটি ৬১৩ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এখানে বাস করেন লক্ষাধিক মানুষ। রয়েছে একতলা ও বহুতল ভবন, সরু গলি ও কমন টয়লেটের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় অসম্ভব।
এখানে ছোট ও মাঝারি কয়েকটি গার্মেন্ট, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ, জুয়েলারি কারখানা রয়েছে। এগুলোতে কাজ করেন মূলত অভিবাসী শ্রমিকরা, যারা বাস করেনও একই এলাকাতে।
লকডাউনের কারণে বস্তির অনেক বাসিন্দার এমন সঞ্চয় নেই যা দিয়ে দিনযাপন করতে পারেন। সরকারের সহযোগিতায় তাদের ঠিকে থাকতে হচ্ছে।
বস্তিটিতে অনেক টিবি রোগী রয়েছেন এবং প্রতি মৌসুমে এখানে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
ওয়ার্ড কাউন্সিল চেয়ারম্যান বসন্ত নাকাশে বলেন, সৌভাগ্যক্রমে যে স্থানে আক্রান্ত পাওয়া গেছে তা বস্তির একপাশে, মাঝামাঝি নয়। আমরা সব পদক্ষেপ নিচ্ছি কিন্তু মানুষ লকডাউনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না। অনেকেই ঘুরাঘুরি করছেন।
ধারাবিতে কর্মরত বেসরকারি চিকিৎসক ড. বিকাশ ওসওয়াল বলেন, করোনার বিস্তার হলে ধারাবি টাইমবোমা হয়ে যাবে। ১৪ দিনের আগে লক্ষণ দেখা যাবে না। তাই লকডাউন সর্বোচ্চ শৃঙ্খলার সঙ্গে মেনে চলা উচিত।

/এএ/

লাইভ

টপ