তিউনিসিয়ায় লকডাউনেও খাবারের দাবিতে বিক্ষোভ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৩৮, এপ্রিল ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৯, এপ্রিল ১২, ২০২০

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন জারি করেছে তিউনিসিয়া। মার্চের শেষ দিকে দেশজুড়ে লকডাউন জারি করা হলেও দেশটি দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ ও তাদের পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়নি সরকারিভাবে। শুরুতে দুই সপ্তাহের লকডাউন জারি করা হলেও এখন তা ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহে খাবারের অভাবে থাকা মানুষেরা বেপরোয়া হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকারের কার্যালয়ে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভ করে। তারা লকডাউন প্রত্যাহার ও সরকার প্রতিশ্রুত সহযোগিতার বাস্তবায়ন চায়। মার্চের শেষ দিকেও এমন বিক্ষোভ হয়েছিল।


কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, লকডাউনের কারণে রেস্তোরাঁ, হোটেল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফিস, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও স্থল সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। এর ফলে এমনিতেই বিপর্যস্ত তিউনিসিয়ার অর্থনীতি আরও সংকটে পড়েছে। দেশটিতে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের।
মার্চের শেষ দিকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এলিয়েস আড়াইশো কোটি দিনার তহবিল ঘোষণা করেন। এর মধ্যে ৪৫০ মিলিয়ন দিনার দরিদ্র পরিবারগুলোর বরাদ্দ রাখা হয়। যারা লকডাউনের কারণে কাজ হারিয়ে বেকার হয়েছে। এছাড়া মাঝারি ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর স্থগিত করা হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ তিউনিসিয়াকে আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আইএমএফ দেশটির জন্য ৭৪৫ মিলিয়ন ডলার ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ২৭৩ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে দিচ্ছে। ইতালিও দেশটির ৫৫ মিলিয়ন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া জেদ্দাহভিত্তিক ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ২৮০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে যাচ্ছে।
তবে তিউনিসিয়ার দিনমজুরদের সঞ্চয় না থাকায় এই লকডাউনে বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। হাদ্দা নামের এক ব্যক্তি বলেন, লকডাউন কোনোভাবেই ভালো সিদ্ধান্ত নয়। মানুষ দুর্ভোগে আছে। এমনিতেই দরিদ্ররা কাজ পাচ্ছিলেন না, এখন তো না খেয়ে মরতে হচ্ছে।
মারওয়ান জেলাসি নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, মানুষ বেপরোয়া হয়ে গেছে। ক্ষুধা তাদের বিক্ষোভে বাধ্য করছ। আমরা স্থানীয় গভর্নরের কার্যালয়ে মিছিল নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু তা বন্ধ ছিল। মিছিলে অংশ নেওয়া সবাই কাজ হারিয়েছেন।
জেলাসি বলেন, টিভিতে সরকার ঘোষণা দিয়েছে সবার দায়িত্ব নেওয়া হবে এবং আমাদের জন্য সমাধান আছে। কিন্তু বাস্তবে সরকারি কার্যালয় বন্ধ এবং কী করতে তা বলার মতো কেউ নেই। এ কারণে মানুষ ক্ষুব্ধ।

/এএ/

লাইভ

টপ