ম্যালেরিয়া ‘সম্পূর্ণ থামাতে’ সক্ষম নতুন আবিষ্কৃত অণুজীব

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০০:৩৩, মে ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৪, মে ০৫, ২০২০

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে আরেক প্রাণঘাতী রোগ ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে আশার কথা শুনিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ম্যালেরিয়ার পরজীবী থেকে মশাকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম একটি অণুজীব আবিষ্কার করেছেন তারা। যুক্তরাজ্য ও কেনিয়ার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অণুজীবের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই অণুজীব কীভাবে ব্যবহার করা হবে তা এখন খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।আক্রান্ত মশার কামড় থেকে ম্যালেরিয়া ছড়ায়

সারা বিশ্বে এখনও অন্যতম প্রাণঘাতী রোগ ম্যালেরিয়া। প্রতিবছর সারা বিশ্বে প্রায় চার লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ এই রোগ। এর বেশিরভাগই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। ম্যালেরিয়ার এই পরজীবী বহনকারী স্ত্রী প্রজাতির অ্যানোফিলিস মশার কামড়ে এই রোগ ছড়ায়। ফলে মশার শরীরে এই পরজীবীর বিস্তার ঠেকানো গেলেই তা রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। নতুন আবিষ্কার হওয়া অণুজীবটি মশাকে ম্যালেরিয়ার বাহক থেকে রক্ষা করতে সক্ষম বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা।

কেনিয়ার লেক ভিক্টোরিয়া এলাকায় গবেষণার সময় মশার শরীরে মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি নামে নতুন অণুজীবের উপস্থিতির প্রমাণ পান বিজ্ঞানীরা। মশার অন্ত্র ও প্রজননতন্ত্রে ওই অণুজীব বসবাস করে। নতুন এই অণুজীব বহনকারী একটি মশাও ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহন করছে- তা দেখতে পাননি বিজ্ঞানীরা। ন্যাচার কমিউনিকেশনে প্রকাশিত ল্যাবরেটরি পরিক্ষার ফলাফলে নিশ্চিত করা হয়েছে এই অণুজীব মশাকে ম্যালেরিয়ার হাত থেকে সুরক্ষা দেয়।   

ছত্রাক জাতীয় এক ধরণের এককোষী অণুজীব মাইক্রোসপরিডিয়া। স্পোরের মাধ্যমে এগুলো বংশবিস্তার করে। এর কোনও কোনও প্রজাতি রোগের কারণ হলেও নতুন আবিষ্কৃত মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি মশার জন্য উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে প্রাকৃতিকভাবে পাঁচ শতাংশ মশা এগুলো বহন করে।

কেনিয়ার কীটের শরীরতত্ত্ব ও বাস্তুতন্ত্র গবেষণার আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের গবেষক ড. জেরেমি হেরেন বলেছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি মশাকে ম্যালেরিয়ার হাত থেকে শতভাগ সুরক্ষা দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের জন্য এই ফলাফল বিস্ময়কর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমার মনে হয় মানুষ বড় ধরণের সাফল্য খুঁজে পাবে।

মশারির ব্যবহার ও কীটনাশক ব্যবহার করে অনেক দেশই ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে। তবে প্রাণঘাতী এই রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন কৌশল উদ্ভাবনের প্রয়োজন বলে একমত হয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা।

নতুন আবিষ্কৃত অণুজীব মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি ঠিক কীভাবে মশাকে ম্যালেরিয়া থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে তা বুঝতে আরও গবেষণা দরকার। তবে ধারণা করে হচ্ছে এই অণুজীব হয়তো মশার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে যাতে করে এটি ম্যালেরিয়ার জীবাণুকে প্রতিরোধ করতে পারে। কিংবা এমনও হতে পারে এই অণুজীব মশার শরীরে থাকার কারণে তা ম্যালেরিয়ার জীবাণুকে শরীরে প্রবেশ করতে দেয় না। মনে করা হচ্ছে একবার মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি মশার শরীরে প্রবেশ করলে তা তার পুরো জীবন-চক্র জুড়ে থাকে। আর সত্যিই যদি তা হয় তাহলে মালেরিয়া নিয়ন্ত্রণও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

বিবিসি লিখেছে, কোনও এলাকায় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে নতুন আবিষ্কার কাজ লাগাতে হলে ওই এলাকার ৪০ শতাংশ মশার শরীরে মাইক্রোসপরিডিয়া এমবি’র উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এই অণুজীব পূর্ণ বয়স্ত মশা থেকে অন্য মশায় ছড়াতে পারে। আবার মা মশা থেকে সন্তানের মধ্যেও যেতে পারে। সেকারণে গবেষকরা মাইক্রোসপরিডিয়ার স্পোর মশার চারণক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। কিংবা ল্যাবরেটরিতে পুরুষ মশার মধ্যে মাইক্রোসপরিডিয়ার সংক্রমণ ঘটিয়ে পরে সেই মশা পরিবেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায় কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

/জেজে/এফইউ/

লাইভ

টপ