অস্ট্রেলিয়ায় বেকারত্ব বৃদ্ধির রেকর্ড, আরও খারাপ পরিস্থিতির হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:৫৫, মে ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৮, মে ১৪, ২০২০

করোনাভাইরাস লকডাউনের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় মাসিক বেকারত্ব বৃদ্ধির হার রেকর্ড ছুঁয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে এপ্রিল মাসে অস্ট্রেলিয়ায় ৫ লাখ ৯৪ হাজার মানুষ চাকুরি হারিয়েছে। তবে সামনে আরও খারাপ পরিস্থিতি আসছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, লকডাউন ছাড়াও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধ অস্ট্রেলিয়ায় বেকারত্ব বাড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

করোনা মহামারি শুরুর আগে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে টানা সম্প্রসারিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি। তবে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন আরোপের পরই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। এছাড়া গত মাসে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে প্রধান বাণিজ্যিক সহযোগী চীনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। চীনের তরফে এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে বেকারত্ব বেড়েছে ৬.২ শতাংশ। ২০১৫ সালের পর এই হার সর্বোচ্চ। তবে এই হিসাব থেকে বাদ পড়েছে চাকুরিপ্রার্থী হিসেবে সরকারি ভাতা পাওয়া ব্যক্তিরা। তাদের যুক্ত করলে এই হার ৯.৬ শতাংশে পৌঁছাতো বলে জানিয়েছে পরিসংখ্যান ব্যুরো।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য প্রকাশের পর টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটা কঠিন সময়, খুবই কঠিন সময়।’ তিনি বলেন, ‘এটা ভয়ানক কষ্টের কিন্তু অপ্রত্যাশিত নয়।’

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মার্চেই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে অস্ট্রেলিয়া। বিদেশিদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়াসহ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নাগরিকদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাব, বিনোদন কেন্দ্র, লাইব্রেরিসহ অন্যান্য জনসমাগম স্থল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফেগুলো থেকে কেবলমাত্র খাবার নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়।

দেশটির কর্মকর্তারা মনে করেন কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় করোনাভাইরাসের মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। দেশটিতে প্রায় সাত হাজার আক্রান্ত শনাক্ত ও ৯৮ জনের মৃত্যু হয়। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় এই সংখ্যা বেশ কম।

/জেজে/

লাইভ

টপ