জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড, বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে দুনিয়াজুড়ে

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:১০, জুন ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩২, জুন ০১, ২০২০

পুলিশ হেফাজতে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এখনও উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। বর্বরোচিত ওই খুনের ঘটনায় দেশটির বিভিন্ন শহরে তীব্র বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে দুনিয়াজুড়ে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ডেনমার্ক, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ডসহ দুনিয়ার নানা প্রান্তে রাজপথে নেমে এসেছে মানুষ। এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি বৈষম্য ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে তারা।

যুক্তরাজ্য

রবিবার সকালে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের ট্রাফালগার এলাকায় সমবেত হয় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের মধ্যে অনেকেই লন্ডনের মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে যাত্রা করেন।

কানাডা

বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কানাডায় দফায় দফায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের এসব বিক্ষোভ থেকে প্রতিবাদকারীরা পুলিশি নৃশংসতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে। টরন্টোতে বিক্ষোভকারীরা ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের নানা স্লোগান দেয়।

নিউ জিল্যান্ড

এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার রাজপথে নেমে আসে নিউ জিল্যান্ডের হাজার হাজার মানুষ। প্রতিবাদকারীরা অকল্যান্ডে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’; ‘নো জাস্টিস, নো পিস’ প্রভৃতি স্লোগান দেয়।

ডেনমার্ক

ডেনমার্কে প্রতিবাদকারীরা ‘স্টপ কিলিং ব্ল্যাক পিপল’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখান।

জার্মানি

জার্মানিতে বিক্ষোভকারীরা দায়ী পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভের তীব্রতায় ইতোমধ্যেই অন্তত ৪০টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিসহ ১৫টি অঙ্গরাজ্যে সেনাবাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে। মিনিয়াপোলিস ও মিনেসোটার সেন্ট পল এলাকায় আন্তঃঅঙ্গরাজ্য মহাসড়কে কয়েক হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। নিউ ইয়র্কে পুলিশের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে প্রতিবাদকারীরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তার বিচার।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগ তাদের চার কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে। এদের মধ্যে ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু তুলে দেওয়া ৪৪ বছর বয়সী ডেরেক চৌবিনও আছেন। গ্রেফতারের পর ডেরেকের বিরুদ্ধে ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যায় মিনেসোটার রাজধানী সেন্ট পল-এ বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন এবং মিছিল করেন। সন্ধ্যার শেষ দিকে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী কালো পোশাক পরে আরেকটি মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা স্লোগান দেন ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ ও ‘জর্জের জন্য ন্যায়বিচার’। মহাসড়কেই হাঁটু গেড়ে বসে বিক্ষোভকারীরা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে।

জেসমিন হওয়েল নামের ২৭ বছরের এক বিক্ষোভকারী এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘এটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ। নীরবতাও শক্তিশালী হতে পারে। ঐক্য, ক্ষমতা ও সংগঠনের পাশাপাশি এই একটি বার্তাও আমরা ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছি।’

তিনি জানান, সবাইকে শান্ত মনে হচ্ছে এবং এটি খুব ভালো সময়। শেষ পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি থাকার বিষয়ে আশাবাদী তিনি।

লস অ্যাঞ্জেলসের সড়কে সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। রাত ৮টার দিকে কারফিউ প্রত্যাহার হলে বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। হান্টিংটন বিচ, সান্তা মোনিকায় লুটপাটের খবর জানিয়েছে এনবিসি লস অ্যাঞ্জেলস। এর আগে শনিবার রাতে এখানে বিক্ষোভকারী বেশ কয়েকটি বাস দখল, অনেক প্রাইভেট কারে অগ্নিসংযোগ ও বেশ কিছু দোকানের কাঁচের জানালা ভেঙে ফেলে বিক্ষোভকারীরা।

২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপলিসে পুলিশ জর্জ ফ্লয়েড নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করলে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। ফ্লয়েডের গাড়িতে জাল নোট থাকার খবর পেয়ে তাকে আটক করতে গিয়েছিল পুলিশ। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ভিডিওতে দেখা গেছে, হাঁটু দিয়ে তার গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সদস্য। নিহত ফ্লয়েড নিরস্ত্র ছিলেন।  নিঃশ্বাস নিতে না পেরে তাকে কাতরাতে দেখা যায়। কৃষ্ণাঙ্গদের দাবি, বর্ণবিদ্বেষের বলি হয়েছেন ফ্লয়েড।

/এমপি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ