সপ্তম দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, বেশ ক’জন গ্রেফতার

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৪১, জুন ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৬, জুন ০২, ২০২০

কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ঘটনায় সোমবার (১ জুন) ৭ম দিনের মতো উত্তাল বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ৪০টি শহরে কঠোর কারফিউ জারি করার পরও তা উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে আসেন বিক্ষোভকারীরা। এদিনও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। হোয়াইট হাউসসহ বিভিন্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভরতদের ওপর পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ছুড়তে দেখা গেছে। মিনেসোটা, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বেশ ক’জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে বিক্ষোভ চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পাঁচ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আর শিকাগোর সিসেরো এলাকায় দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। শহরের মুখপাত্র রে হানানিয়া জানিয়েছেন, সিসেরোর বাইরে থেকে আসা দুর্বৃত্তরা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

আটলান্টায় টিয়ার গ্যাস ছোড়ার পরও অবিচল এক বিক্ষোভকারী

পুলিশি হেফাজতে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল পুরো যুক্তরাষ্ট্র। টানা সাত দিন ধরে শহরে শহরে চলছে বিক্ষোভ। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পাশাপাশি পুলিশি দমনের বিপরীতে চলছে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষ। ওয়াশিংটন, ডিসি ছাড়াও অন্তত ২৩টি অঙ্গরাজ্যে সক্রিয় রয়েছেন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা। তবে কারফিউ জারি আর বিশেষ বাহিনী নামিয়েও লোকজনকে রাস্তা থেকে সরানো যাচ্ছে না। মৃত্যুর আগে ফ্লয়েডের বলে যাওয়া শেষ শব্দগুলোকে স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেক শহরের বিক্ষোভকারীরা।

সিএনএন- প্রতিবেদক ড্যান সিমন জানিয়েছেন, সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে কারফিউ শুরুর আগেই বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক ও গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবেই বিক্ষোভ করছিলো বলে উল্লেখ করেন সিমন। তবে টুইটারে দেওয়া বিবৃতিতে ওকল্যান্ডের পুলিশ বিভাগ দাবি করে বিক্ষোভকারীরা কারফিউ ভঙ্গ করেছে। ৪০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করার কথা জানিয়েছে তারা।

মিনেসোটার সেন্ট পলের আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যরা সোমবার রাতে অন্তত ৬৬ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে। এদিন বিক্ষোভকারীরা মিছিল করতে করতে করতে গভর্নর ম্যানশন থেকে ক্যাপিটলের দিকে এগিয়ে যায়। তবে রাত ১০ টায় কারফিউ কার্যকর হওয়ার পরও কিছু বিক্ষোভকারী অেবস্থানস্থল ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভরতদের সরিয়ে দিতে সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অন্তত একটি হেলিকপ্টার বিক্ষোভকারীদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাচ্ছিলো ধূলো উড়াচ্ছিলো।

হোয়াইট হাউস এলাকায়ও চলছে বিক্ষোভ। সোমবার হোয়াইট হাউসের কাছে বিক্ষোভরতদেরকে সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এর কিছুক্ষণ পরই দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে বের হয়ে একটি গির্জায় গিয়েছেন। সেখানে বাইবেলের সঙ্গে একটি ছবিও তোলেন তিনি।

এদিকে নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন জায়গায় লুটপাট হচ্ছে উল্লেখ করে সোমবার বিক্ষোভকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানান গভর্নর বিল দে ব্লাসিও। তিনি জানান, অনেকে বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে লুটপাট করছে, ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, অন্যকে আঘাত করছে। তবে তার বিবৃতির পর সোমবার রাতেও অনেক দোকানের জানালার কাঁচ ভেঙে লুটপাট হয়েছে।

এদিকে রবিবার রাতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ফেডারেল পুলিশের চালানো দমন-পীড়নকে ‘লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বৌসের। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আমি সন্ধ্যা ৭টা থেকে কারফিউ জারি করেছিলাম। কিন্তু তার ২৫ মিনিট আগেই কোনোরকমের উসকানি ছাড়াই হোয়াইট হাউসের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভরতদের ওপর পুলিশ অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ওয়াশিংটন পুলিশ বিভাগের কাজকে কঠিন করে তুলবে। এটা লজ্জাজনক।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে ফিরে নিরাপদে থাকার জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন মুরিয়েল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে পুলিশ-বিক্ষোভকারী মুখোমুখি অবস্থান সত্ত্বেও কিছু কিছু এলাকায় আবার পরস্পরের সংহতিও দেখা গেছে। আটলান্টা, ডেনভার ও নিউ ইয়র্কে পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের জড়িয়ে ধরতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার হাঁটু গেড়ে বসে ফ্লয়েডকে স্মরণ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছেন।

 

 

/এফইউ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ