বাবাকে আর পাশে পাবে না আমার সন্তান: ফ্লয়েডের সাবেক সঙ্গী

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:১৪, জুন ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৪৩, জুন ০৪, ২০২০

শুধু নামে নয়, একজন ভালো বাবা ও ভালো মানুষ হিসেবে জর্জ ফ্লয়েডকে স্মরণ করার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তার সন্তানের মা রক্সি ওয়াশিংটন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্লয়েডের সাবেক সঙ্গী এ আকুতি জানান। বাবার আদর ছাড়াই জিয়ানাকে বেড়ে উঠতে হবে বলে আক্ষেপ করেন তিনি। ওই সংবাদ সম্মেলনে ছয় বছর বয়সী মেয়ে জিয়ানাও উপস্থিত ছিল।

রক্সি ও মেয়ে জিয়ানা

২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপলিসে হত্যার শিকার হন জর্জ ফ্লয়েড। সেদিন ফ্লয়েডের গাড়িতে জালনোট থাকার খবর পেয়ে তাকে আটক করতে গিয়েছিল পুলিশ। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ভিডিওতে দেখা গেছে, হাঁটু দিয়ে তার গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সদস্য। নিহত ফ্লয়েড নিরস্ত্র ছিলেন। নিশ্বাস নিতে না পেরে তাকে কাতরাতে দেখা যায়। কৃষ্ণাঙ্গদের দাবি, বর্ণবিদ্বেষের বলি হয়েছেন ফ্লয়েড। হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার (২ জুন) কাঁদতে কাঁদতে আবেগঘন বক্তব্য দেন ৩৮ বছর বয়সী রক্সি ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই সবাই জানুক, ওই পুলিশ কর্মকর্তারা আমার কাছ থেকে কী ছিনিয়ে নিয়েছে। দিনশেষে ওরা তো বাড়ি ফিরে যেতে পারে, পরিবারের কাছে ফেরে। কিন্তু জিয়ানা তো আর তার বাবাকে কাছে পাবে না। বাবাকে ছাড়াই ওকে বেড়ে উঠতে হবে, গ্রাজুয়েট হতে হবে।’ রক্সি যখন কথাগুলো বলছিলেন তখন তার পাশেই দাঁড়িয়েছিল জিয়ানা।

রক্সি আরও বলেন, ‘আমার সন্তানের জন্য আমি এখানে এসেছি। জর্জের জন্য আমি এখানে এসেছি। কারণ, আমি তার জন্য ন্যায়বিচার চাই। আমি ন্যায়বিচার চাই। কারণ, সে ভালো মানুষ ছিল। কে কি ভাবলো তাতে কিছু যায় আসে না, সে ভালো মানুষ ছিল এটাই সত্যি। এটাই তার প্রমাণ।’

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ আটক করলে ৪৬ বছরের ফ্লয়েড হৃদরোগে আক্রান্ত হন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের গলায় চাপ বা আটকে ধরার কারণে দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়। ময়নাতদন্তে জর্জ ফ্লয়েডের হৃদরোগ ও সাম্প্রতিক মাদক গ্রহণের প্রমাণও পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ অফিসার চেপে ধরলে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এর আগে ফ্লয়েডের পরিবারের পক্ষ থেকে আরেকটি পরীক্ষা করা হয়। সেখানে বলা হয়, পুলিশ গলা ও ঘাড়ে চাপ প্রয়োগ করায় তিনি অক্সিজেন চলাচলের বাধাজনিত অ্যাসফিক্সিয়ায় আক্রান্ত হন। পরিবারের নিযুক্ত আইনজীবী বেঞ্জামিন ক্রাম্প বলেন, পুলিশ ডেরেক চাওভিন যদি ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চাপা না দিতেন ফ্লয়েড বেঁচে থাকতেন।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর পরদিনই সংশ্লিষ্ট চার পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত করা হয়েছে একজনকে। চার জনের সবাইকে অভিযুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। 

/এফইউ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ