সিয়াটলে ‘মুক্তাঞ্চল’ গড়ে তুললো বিক্ষোভকারীরা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:২০, জুন ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৬, জুন ১২, ২০২০

‘এই জায়গাটি এখন সিয়াটলের জনগণের সম্পত্তি’– কালো রঙের লাল অক্ষরে বড় একটি ব্যানারে এই কথাগুলো লেখা রয়েছে ‘ক্যাপিটল হিল মুক্তাঞ্চলে’। তাঁবু বসিয়ে অবস্থান করার পরিকল্পনা তাদের। সিয়াটল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট সোমবার রাতে তাদের আওতাধীন পূর্ব এলাকা থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। পরে জর্জ ফ্লয়েড হত্যা ও পুলিশী নিপীড়নের প্রতিবাদকারীরা একটি ভবনে অবস্থান নিয়ে মুক্তাঞ্চল গড়ে তুলে এবং একটি ভবনে লেখা সিয়াটল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট লেখা পাল্টে দেয়।

এরপর থেকে কয়েক হাজার মানুষ এই মুক্তাঞ্চলে জড়ো হয়েছেন। সেখানকার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ, আংশিক কমিউন ব্যবস্থা, বক্তব্য, বিনামূল্যে খাবার বিতরণ, সরাসরি গানের অনুষ্ঠান, কমিউনিটি বাগান ও শেষ রাতে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ওমারি সালিসবুরি নামের এক নাগরিক সাংবাদিক মুক্তাঞ্চল নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। এনবিসি নিউজকে তিনি জানান, পরিবেশ একেবারে ব্লক পার্টির মতো।

কেউ ফ্রিসবি খেলছেন, কেউ সরাসরি গানের অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন, আবার কেউ কেউ ১৯৮০ দশকের শেষ দিকে সমকামী সম্প্রদায়ের নাচের সংস্কৃতি নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘প্যারিস ইজ বার্নিং’ দেখছেন। রাস্তার মাঝখানে মানুষ ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার লিখেছেন, দুইটি সড়ক ও একটি স্কয়ারের নামকরণ করেছেন।

কোর্টনি ব্লডগেট নামের এক কনসালটেন্ট জানান, মুক্তাঞ্চল মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নেওয়ার মতো। তিনি বলেন, মানুষ বন্ধুসুলভ, শান্ত, সহযোগিতাপূর্ণ ও অনুপ্রাণিত। আমি অনেক মানুষকে কথা বলতে শুনেছি কীভাবে তারা সহযোগিতা করতে পারে। আমি কীভাবে খাবার দিতে পারি? অন্য কিছু করার আছে।  

তিনি আরও বলেন, জাতিগত ন্যায়বিচারের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া নিয়েও আলোচনা শুনেছি। মানুষ জর্জ ফ্লয়েড, ব্রেওনা টেইলর, চারলিনা লাইলস পুলিশ কর্তৃক নিহত কৃষ্ণাঙ্গদের শ্রদ্ধা জানাতে চাইছে।

সালিসবুরি জানান, সিয়াটল পুলিশ প্রধান কারমেন বেস্ট বৃহস্পতিবার সকালে অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে এখানে আসেন এবং ভবনটি পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, পুলিশি অ্যাকশনের জন্য তারা এখানে আসেননি। কিন্তু তারা ভবনটি ফেরত চায়।

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ট্রাম্প একের পর এক টুইট করেন। বিক্ষোভকারীদের ‘স্থানীয় সন্ত্রাসী’ উল্লেখ করেন তিনি। দাবি করেন, ‘স্থানীয় ন্ত্রাসীরা’ সিয়াটল দখলে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপোলিসে পুলিশি হেফাজতে হত্যার শিকার হন জর্জ ফ্লয়েড। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ভিডিওতে দেখা গেছে, হাঁটু দিয়ে নিরস্ত্র ফ্লয়েডের গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ডেরেক চাওভিন নামের এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সদস্য। এই হত্যার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। 

/এএ/

লাইভ

টপ
X