আফ্রিকায় শত শত হাতির মরদেহ, মৃত্যুর কারণ অজানা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:০৩, জুলাই ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৯, জুলাই ০২, ২০২০

দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।  এই 'অভূতপূর্ব' ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার কিছু জানা যায়নি। আফ্রিকায় অবস্থানরত সহকর্মীদের বরাত দিয়ে ডক্টর নিয়াল ম্যাককান ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, মে মাসের শুরু থেকে দেশটি ওকাভাঙ্গো ব-দ্বীপে ৩৫০টির বেশি হাতির মরদেহ দেখা গেছে।

আফ্রিকার মোট হাতির এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে বতসোয়ানায়। সেগুলো কেন মারা যাচ্ছে, সে সম্পর্কে কেউ কোনও ধারণা দিতে পারছে না। সরকার বলছে এইসব প্রাণীর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চলছে, যেই রিপোর্ট আরও সপ্তাহখানেক পরে পাওয়া যাবে।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল পার্ক রেসকিউর কর্মকর্তা নিয়াল ম্যাককান বিবিসিকে জানান,  স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা মে মাসের শুরুর দিকে ব-দ্বীপের ওপর দিয়ে বিমান ভ্রমণ করার সময় কিছু হাতির মরদেহ চোখে পড়লে বসতোয়ানার সরকারকে বিষয়টি জানায়। তিনি বলেন, "তারা ঐ অঞ্চলের ওপর দিয়ে তিন ঘণ্টার একটি ফ্লাইটে যাওয়ার সময় ১৬৯টি হাতির মরদেহ দেখে। তিন ঘণ্টার ফ্লাইটে ঐ পরিমাণ হাতির মরদেহ দেখতে পাওয়া খুবই অস্বাভাবিক।"

"ঐ ঘটনার এক মাস পর আরো তদন্ত করে তারা আরও অনেকগুলো মরদেহ দেখতে পান। মোট সংখ্যাটি ৩৫০এর ওপর।" ম্যাককান বলেন, "যেই বিপুল সংখ্যক হাতি মারা গেছে, তা একেবারেই অভূতপূর্ব। খরা বাদে কোন একটি একক কারণে এত বিপুল পরিমাণ প্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা দেখা যায় না।"

এই হাতিগুলোর মৃত্যুর পেছনে শিকারিদের হাত থাকার সম্ভাবনা আগেই নাকচ করে দিয়েছে বতসোয়ানার সরকার। কারণ হাতিগুলোর দাঁত কেটে নেয়া হয়নি।

ড. ম্যাককান বলেন, "সেখানে শুধু হাতিই মারা যাচ্ছে, অন্য কোন প্রাণী নয়। যদি চোরা-শিকারিদের দেয়া সায়ানাইডে হাতিগুলো মারা যেত, তাহলে হাতি বাদে অন্য আরো পশুও মারা যেত।"

স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অ্যানথ্রাক্স বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন ড. ম্যাককান। গত বছর অ্যানথ্রাক্স বিষক্রিয়ায় বতসোয়ানায় ১০০'র বেশি হাতি মারা গিয়েছিল। তবে বিষক্রিয়া বা কোন রোগের উপস্থিতির সম্ভাবনা একেবারে বাতিল করে দিতে পারছেন না তারা।

হাতিগুলোর মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে জানা না যাওয়ায় তাদের মধ্যে থেকে কোন রোগ মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে কিনা, সেই সম্ভাবনাও বাতিল করে দেয়া যাচ্ছে না - বিশেষ করে যখন জানা যাচ্ছে না যে পানির উৎস বা মাটি থেকে কোন ধরনের বিষক্রিয়া হচ্ছে কিনা।

কোভিড-১৯ মহামারি এখন প্রাণীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে - এই বিষয়টিরও উল্লেখ করেন ড. ম্যাককান। হাতি মারা যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এটি পরিবেশগত বিপর্যয় - তবে এটি জনস্বাস্থ্য বিষয়ক দুর্যোগেও পরিণত হতে পারে।"

/জেজে/বিএ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ