এবার চীনের ৫০ প্রকল্প আটকে দিচ্ছে ভারত!

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৪:৫৮, জুলাই ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩২, জুলাই ০৭, ২০২০

সীমান্ত সংঘাতের জেরে চীনের ৫৯টি অ্যাপ নিষিদ্ধের পর এবার চীনা কোম্পানির প্রস্তাবিত ৫০টি প্রকল্প পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। দিল্লির নতুন ঘোষিত মূল্যায়ন নীতির আওতায় এসব প্রকল্প পর্যালোচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে ভারতের এই নীতিকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়েছে চীনা বিনিয়োগকারীরা।

গত এপ্রিলে ভারত নতুন বিনিয়োগ মূল্যায়ন নীতি ঘোষণা করে। এর আওতায় প্রতিবেশি কোনও দেশ থেকে ভারতে বিনিয়োগ করতে হলে দেশটির সরকারের অনুমোদন নিতে হবে; তা সে নতুন বিনিয়োগ হোক কিংবা পুরনো বিনিয়োগে অতিরিক্ত তহবিল যোগ করা হোক। ভারতে এই ধরনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী চীন। চীনা বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ভারতের নতুন এই নীতিকে বৈষম্যমূলক আখ্যায়িত করেছে বেইজিং।

ভারত সরকারের দাবি করোনাভাইরাসের মহামারির সময়ে সুবিধাবাদী দখল ঠেকাতে নতুন বিনিয়োগ নীতি ঘোষণা করা হয়। তবে শিল্পখাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, গত মাসে চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের জেরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় অনুমোদন প্র্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হতে পারে। ভারতের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘বিভিন্ন ছাড়পত্র দরকার পড়বে। কারো কল্পনা থেকেও বেশি সতর্ক হয়েছি আমরা।’

নতুন ওই নীতির খসড়া তৈরি করে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শিল্প বিভাগ। রয়টার্সের তিনটি সূত্র জানিয়েছে, নীতি পরিবর্তনের পর থেকে চীনা কোম্পানির ৪০ থেকে ৫০টি আবেদন জমা পড়েছে। বর্তমানে সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এনিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনের ভারতীয় দূতাবাসসহ ভারত সরকারের একাধিক সংস্থা বিনিয়োগকারী ও তাদের প্রতিনিধিদের কাছে বিনিয়োগ প্রস্তাবের স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইছে।

ভারতীয় আইনি প্রতিষ্ঠান কৃষ্ণমূর্তি অ্যান্ড কোম্পানি’র সহযোগী আইনজীবী অলোক শঙ্কর জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীনের অন্তত দশটি ক্লায়েন্ট ভারতে বিনিয়োগের বিষয়ে তাদের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন। কিন্তু তারা ভারতীয় নীতির আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যার জন্য অপেক্ষা করছেন। শঙ্কর বলেন, ‘বিনিয়োগ অনুমোদনের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তায় পক্ষগুলো হতাশ হচ্ছে, ভারত এবং চীন উভয় পক্ষই হতাশ হচ্ছে আর একই সঙ্গে বাণিজ্য প্রক্রিয়াও পিছিয়ে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে সংঘাতে অন্তত ২০ সেনা নিহতের পর ভারতে চীনা পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়। পরে নরেন্দ্র মোদির সরকার ‘সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, প্রতিরক্ষা, রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও জনশৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর’ আখ্যা দিয়ে টিকটকসহ চীনের নির্মাণ করা ৫৯টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করে ভারত। আর তারপরেই চীনা বিনিয়োগ আটকে দেওয়ার খবর সামনে এলো।

গত মার্চে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস জানায়, ভারতে চীনা কোম্পানির বিদ্যমান এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগের পরিমাণ দুই হাজার ছয়শো কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ