প্রভাবশালী চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৯:২৮, আগস্ট ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৯, আগস্ট ০২, ২০২০

ইউঘুর মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগে শিনজিয়াং প্রদেশে একটি প্রভাবশালী চীনা কোম্পানি এবং দুই কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর চীনা  প্রদেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়লো ।

বেশ কয়েকটি ইস্যুতে গত কয়েক মাস ধরেই যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সবশেষ ‘আমেরিকান ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টিকে সুরক্ষিত রাখার স্বার্থ’কে কারণ দেখিয়ে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক উসকানি’ উল্লেখ করে  চেংডুতে মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দেয় বেইজিং। এছাড়াও বাণিজ্য, করোনাভাইরাস মহামারি, হংকংয়ের বিতর্কিত নতুন নিরাপত্তা আইন ও উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ‘এক্সপিসিসি’ নামে পরিচিত চীনের ‘শিনজিয়াং প্রোডাকশন এন্ড কন্সট্রাকশন করপোরেশন’কে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করেছে।

পাশপাশি শিনজিয়াংয়ে জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘনে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এক্সপিসিসি’র সাবেক পার্টি সেক্রেটারি সুন জিনলং এবং এক্সপিসিসি’র ডেপুটি পার্টি সেক্রেটারি ও কমান্ডার পেং জিয়ারুইকে। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে শিনজিয়াংয়ের ওই কোম্পানি ও কর্মকর্তাদের সম্পদ জব্দ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনও কোম্পানির সঙ্গে তাদের লেনদেন নিষিদ্ধ থাকবে এবং দুই কর্মকর্তা সুন জিনলং ও পেং এর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে।

চীনের শাসক দল কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে শিনজিয়াং প্রদেশে প্রায় ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আটক করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। তাদেরকে ক্যাম্পে বন্দি করে রাখা হলেও বেইজিং-এর বক্তব্য, উইঘুরদের মনোজগৎ থেকে জঙ্গিবাদ নিশ্চিহ্ন করতেই তাদের  'বৃত্তিমূলক শিক্ষা'র ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ক্যাম্প থেকে পালানো উইঘুরদের বক্তব্য, সেখানে তাদের উপর নানা অত্যাচার চালানো হয়েছে। জোর করে, অত্যাচার চালিয়ে অপরাধ স্বীকারের ফর্মে সই করতে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য স্টেরিলাইজও করা হচ্ছে ক্যাম্পে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের বক্তব্য, যে কায়দায় চীন এ কাজ করছে, তাতে একটি গোটা সম্প্রদায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে শিনজিয়াংয়ে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগে চীনের পলিটব্যুরোর প্রভাবশালী এক সদস্যসহ দেশটির চার কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এছাড়া জুলাইয়ে তৃতীয় দফায় ১১ চীনা কোম্পানিকে অর্থনীতির নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। এই কোম্পানিগুলো চীনের উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষদের জোর করে শ্রম দিতে বাধ্য করছে বলে অভিযোগ মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।

/বিএ/

লাইভ

টপ