ডাক্তারদের অভিজ্ঞতায় বৈরুতের বিস্ফোরণ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:৩৪, আগস্ট ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৯, আগস্ট ০৬, ২০২০

বৈরুত বিস্ফোরণের পর থেকেই আহতদের জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে শুরু করেছেন ডাক্তাররা। আরব নিউজকে দেওয়া তাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে বিস্ফোরণের ভয়াবহতা।

মঙ্গলবার বিকেলে বন্দর এলাকার ওই বিস্ফোরণে পুরো বৈরুত শহর ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৫ জনে পৌঁছেছে এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু ভবন। উদ্ধার কাজ এখনও চলমান।

গুরুতর আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বৈরুতের ক্লেমেনসেউ মেডিকেল সেন্টারে। বিস্ফোরণে ওই চিকিৎসা কেন্দ্রেরও বড় একটা অংশের ক্ষতি হয়েছে।

ক্লেমেনসেউ হাসপাতালের কার্ডিওলজিস্ট ডা. ওয়ালিদ আলামি আরব নিউজকে বলেন, ‘সবখানে কেবল রক্ত আর রক্ত।’ ওয়ালিদ জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে গুরুতর আহতদের বেশির ভাগই শিশু। তারা চোখে আঘাত পেয়েছে। কাচের টুকরোয় অনেকেই দৃষ্টি হারিয়েছে।

‘আমার বছর ৫৮। আমি গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছি। ২০০৬ সালের আক্রমণ সময়ও রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছি। কিন্তু এমন পরিস্থিতি আমি কখনো দেখিনি।’ ওয়ালিদ আরও বলেন, ‘আমি এমন কোনও বোমার খবর জানি না, যা এত বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এমন ধ্বংসের কারণ হতে পারে।’

‘আমরা ভালোভাবেই এই সংকট মোকাবিলা করছি। ২০০৬ সালে ইসরায়েলের বিপক্ষে যুদ্ধের পর আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের অনেক জরুরি চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।’

আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের সার্জন ডা. রামজি আলামিও রয়েছেন আহতদের চিকিৎসার দায়িত্বে। তিনি বলেন, ‘বৈরুতের বেশিরভাগ হাসপাতালে গত রাতে রোগীর স্রোত নেমেছিল। অনেক মানুষকে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে আমাদের। এত রোগী সামাল দেওয়াটা আমাদের স্টাফদের জন্য ছিল বিশাল একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা করিডরও খুলে দিয়েছি, যেন গুরুতর আহতদের চিকিৎসা দিতে পারি।’

‘গতরাতে যা ঘটেছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। করিডর, ফ্লোর- সব জায়গায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হয়েছে আমাদের। শুরুতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আমাদের অন্ধকারে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। আমাদের যা অভিজ্ঞতা হয়েছে এবং যা দেখেছি, অবিশ্বাস্য।’ ডা. রামজি আলামি জানান, বেশির ভাগ রোগীই মাথায় আঘাত পেয়েছেন, অনেকে ট্রমায় ভুগেছেন।

ডা. আলামি বলেন, ‘বিস্ফোরণের ভয়াবহতায় মানুষজন বিভিন্ন জায়গায় ছিটকে যায়, বাতাসে ভেসে ওঠে অথবা অনেকে দেয়ালের সঙ্গে জোরে আঘাত পায়। কাচের আঘাতে অনেকের শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে গেছে, অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

/বিএ/

লাইভ

টপ