রুশ ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমা বিশ্ব

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২:৫৫, আগস্ট ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৮, আগস্ট ০৮, ২০২০

রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ মাসের ১২ তারিখেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিবন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হলেও পশ্চিমা বিশ্ব এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাড়াহুড়ো করে ভ্যাকসিন বের করার বিপদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তাদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে ভ্যাকসিনটি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিলে তার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে।

১২ জুলাই রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গামালেই ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজির উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে শেষ করেছে তারা। ২২ জুলাই (বুধবার) রুশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের ভ্যাকসিনটি প্রস্তুত। এ মাসের শুরুতে (১ আগস্ট শনিবার) রাষ্ট্রীয় রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে জানায়, অক্টোবর মাস থেকে জনগণকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে। 

গতকাল রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১২ আগস্ট বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন হিসেবে নিজেদের তৈরি ভ্যাকসিন নিবন্ধন করবে ক্রেমলিন। তবে সবশেষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে থাকা যে ছয়টি করোনা ভ্যাকসিনের কথা বলা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রুশ ভ্যাকসিন নেই।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে এরইমধ্যে রাশিয়াকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে শেষ বেলায় এসে ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে যোগ দেওয়া রাশিয়ার সবার আগে অনুমোদনের ঘোষণায় পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

খবর অনুযায়ী, গামালেয়া ভ্যাকসিন শর্তসাপেক্ষে আগস্টে নথিভুক্ত করা হবে। এর অর্থ হলো ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তবে পাশাপাশি তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলবে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল যতদিন না সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততদিন তা শুধুমাত্র চিকিৎসকরাই সেটা নিয়ন্ত্রণ করবেন।

ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে; এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির গণস্বাস্থ্য আইন বিশেষজ্ঞ লরেন্স গোস্টিন। এপিকে তিনি বলেছেন, ‘এটা ঠিক কাজের হবে না… আগে ট্রায়াল সম্পন্ন হওয়া দরকার। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) প্রধান ক্রিমিল দিমিত্রিভ আগেই জানিয়েছিলেন, প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়া তাদের করোনা টিকা বাজারে আনবে। এ ব্যাপারে ক্রিমিল দিমিত্রিভ বলেছিলেন, স্পুটনিকের মহাকাশ যাত্রা দেখে মার্কিনিরা যেমন অবাক হয়েছিল; একই ঘটনা ঘটবে করোনা ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও। বিশ্ববাসী অবাক হয়ে রাশিয়ার সাফল্য দেখবে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ ভ্যাকসিন নিয়ে রাশিয়ার দ্রুতগতির এই উদ্যোগ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি আশা প্রকাশ করেন, রাশিয়া ও চীন মানবদেহে প্রয়োগের আগে ‘ভ্যাকসিন সত্যিকার অর্থেই পরীক্ষা’ করবে।

নিজস্ব টিকা পরীক্ষায় সফল হলেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে টিকা হ্যাক করার অভিযোগও উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা তাদের গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য হ্যাক করার অভিযোগ তুলেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। গত মাসে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের টিকা পরীক্ষার প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করে। তারা জানায়, কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধী সক্ষমতা দেখিয়েছে তাদের টিকা।

এই সাফল্য ঘোষণার কিছু সময় পরই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা জানায়, এপিটি ২৯ নামের একটি দল ব্রিটিশ পরীক্ষাগারগুলোয় সাইবার হামলা শুরু করে এবং গবেষণা তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে এ ধরনের অভিযোগ মস্কো অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘এ হামলার সঙ্গে রাশিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।’

/বিএ/

লাইভ

টপ