বিতর্কিত নির্বাচনের পর বেলারুসে টানা সহিংসতা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৬:৪০, আগস্ট ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪১, আগস্ট ১১, ২০২০

বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর বেলারুসের রাজধানী মিনস্কে টানা দ্বিতীয় রাতের মতো সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। সোমবার কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে দিতে রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে পুলিশ। আবার কোথাও কোথাও পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন বিক্ষোভকারীরা। এদিকে সোমবার প্রথমবারের মতো এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, নিজের হাতে একটি ডিভাইসের বিস্ফোরণের ফলে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত রবিবার অনুষ্ঠিত হয় বেলারুসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এতে ১৯৯৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন বলে দাবি নির্বাচনি কর্মকর্তাদের। আর তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্টেভলানা টিকানোভস্কায়া পেয়েছেন ৯.৯ শতাংশ ভোট। তবে এই ফল প্রত্যাখ্যান করে নিজেকেই সত্যিকার জয়ী দাবি করছেন টিকানোভস্কায়া। এই নির্বাচনে কোনও পর্যবেক্ষক না থাকায় ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর নেতৃত্ব নিয়ে হতাশা বাড়তে থাকার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় এবারের নির্বাচন। প্রচারণাকালে বিরোধী দলের জমায়েতগুলোতেই অপেক্ষাকৃত বেশি মানুষকে সমবেত হতে দেখা যায়। ভোটগ্রহণের দিন অ্যাকটিভিস্ট ও সাংবাদিকদের ওপর দমন-নিপীড়নের ঘটনাও ঘটে। পরে বিক্ষোভ শুরু হলেও অনড় অবস্থানে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট। বিরোধীদের ‘ভেড়া’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে বাইরের শক্তি।

প্রেসিডেন্টের এমন অভিযোগের পরও রাজধানী মিনস্কের রাজপথে বিক্ষোভে সমবেত হয় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে দাঙ্গা পুলিশ। পোল্যান্ডভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম বেলসাত টিভিতে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে ভিড়ের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ। খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মলোটোভ ককটেল ব্যবহার ছাড়াও ব্যারিকেড তৈরির চেষ্টা করেছে।

বিক্ষোভের সময় আটক করা হয়েছে বহু মানুষকে। এক সাংবাদিক আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। সোমবার আরও পরের দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তার দাবি আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ছোড়ার চেষ্টার সময়ে নিজের হাতে সেটি বিস্ফোরিত হওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।

বিক্ষোভের কারণে বন্ধ হয়েছে গেছে মিনস্কের বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট সেবা। মিনস্ক ছাড়াও দেশটির আরও বেশ কিছু শহরেও বিশালাকার বিক্ষোভ হতে দেখা গেছে।

/জেজে/

লাইভ

টপ