বিক্ষোভের মধ্যে ‘দেশ ছাড়লেন’ বেলারুসের বিরোধী নেতা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৫৮, আগস্ট ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৯, আগস্ট ১২, ২০২০

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে বেলারুসে টানা বিক্ষোভের মধ্যে দেশ ছেড়েছেন এই নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্টেভলানা টিকানোভস্কায়া। ইউটিউবের এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, নিজের সন্তানদের কারণে খুব কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে। একই সঙ্গে সোমবার তাকে আটকের সময়ের আরও একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে টিকানোভস্কায়া লিথুনিয়ায় নিরাপদ রয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।বেলারুসেরনির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্টেভলানা টিকানোভস্কায়া

গত রবিবার অনুষ্ঠিত হয় বেলারুসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এতে ১৯৯৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন বলে দাবি নির্বাচনি কর্মকর্তাদের। আর তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্টেভলানা টিকানোভস্কায়া পেয়েছেন ৯.৯ শতাংশ ভোট। তবে এই ফল প্রত্যাখ্যান করে নিজেকেই সত্যিকার জয়ী দাবি করেন টিকানোভস্কায়া। এই নির্বাচনে কোনও পর্যবেক্ষক না থাকায় ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

ওই অভিযোগের কারণে টানা দুই দিন ধরে বেলারুসের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। রাজধানী মিনস্কের রাজপথে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে  ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে দাঙ্গা পুলিশ। পোল্যান্ডভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম বেলসাত টিভিতে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে ভিড়ের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ। খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মলোটোভ ককটেল ব্যবহার ছাড়াও ব্যারিকেড তৈরির চেষ্টা করেছে। এসব ঘটনায় অন্তত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভ হয়েছে দেশটির অন্য শহরগুলোতে। বিক্ষোভের মধ্যে ভোটের ফলাফল নিয়ে নিজের অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করতে গিয়ে সোমবার সাত ঘণ্টা আটক থাকেন স্টেভলানা টিকানোভস্কায়া।

পরে এক ভিডিও বার্তায় স্টেভলানা টিকানোভস্কায়া বলেন নিজের শক্তি অতিমূল্যায়ন করে ফেলেছিলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম এই প্রচারণা আমাকে সত্যিকারে কঠিন করে তুলেছে আর আমি যেকোনও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবো। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমি আগেও যে দুর্বল নারী ছিলাম এখনও তাই আছি।’

সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও দাবি করেন স্টেভলানা টিকানোভস্কায়া। এক্ষেত্রে আশেপাশের কারো কাছ থেকে প্রভাবিত না হওয়ার দাবি করে তিনি বলেছেন এই সিদ্ধান্তের কারণে অনেকে তার নিন্দা কিংবা ঘৃণা করলেও সেগুলো তিনি পরোয়া করেন না। তিনি বলেন, এখন যা হচ্ছে তাতে কারো জীবনেরই মূল্য নেই। আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সন্তানেরা।

আকস্মিকভাবে নির্বাচনে যুক্ত হলেও ভোটগ্রহণের আগেই নিজের সন্তানদের লিথুনিয়ায় পাঠিয়ে দেন স্টেভলানা টিকানোভস্কায়া। নিজের স্বামীকে গ্রেফতার করা হলে ৩৭ বছর বয়সী টিকানোভস্কায়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতার সিদ্ধান্ত নেন।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ