স্পুটনিক ভি: রাশিয়ার সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার 'নিবিড় যোগাযোগ'

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:০১, আগস্ট ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১৬, আগস্ট ১২, ২০২০

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার তৈরি বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে দেশটির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। তবে ডব্লিউএইচও’র স্বীকৃতি পেতে হলে ভ্যাকসিনটির সুরক্ষা বিষয়ক যাবতীয় তথ্য খুব ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন হিসেবে ‘স্পুটনিক ভি’ অনুমোদনের কথা জানান। একই দিনে রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ জানান, বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচও’র মুখপাত্র তারিক জাসারেভিক বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছি এবং ডব্লিউএইচও ভ্যাকসিনের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার বিষয়ে আলোচনা করছে।’

সাধারণত, কোনও ভ্যাকসিন অনুমোদনের ক্ষেত্রে ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে সাধারণত লাখো মানুষের ওপর এটি প্রয়োগ করা হয়। তার ফলাফল সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পরই ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। রাশিয়ার নিজেদের দাবি অনুযায়ীই তারা কেবল কয়েক হাজার মানুষের ওপর এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে।

ডব্লিউএইচও কোনও ভ্যাকসিন অনুমোদন দেওয়ার আগে এর প্রাক-যোগ্যতা নির্ধারণ করে। তারিক জাসারেভিক জানান, প্রাক-যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুরক্ষা এবং কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্যের কঠোর পর্যালোচনা এবং মূল্যায়ন জরুরি।   

‘প্রতিটি দেশের জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজ নিজ অঞ্চলে ভ্যাকসিন বা ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়ে থাকে। প্রস্তুতকারকরা করোনা ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন চান। কারণ, এটি এক ধরনের মান নির্ধারণী সিল,”  বলেন জাসারেভিক। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হতে চাই এটি মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হবে না। একই সঙ্গে আমরা এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাই।’

১২ জুলাই রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গামালেই ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজির উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে শেষ করেছে তারা। ২২ জুলাই (বুধবার) রুশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের ভ্যাকসিনটি প্রস্তুত।
এ মাসের শুরুতে (১ আগস্ট শনিবার) রাষ্ট্রীয় রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে জানায়, অক্টোবর মাস থেকে জনগণকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে।

বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় থাকা ৬টি ভ্যাকসিনের মধ্যে তিনটি চূড়ান্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পৌঁছেছে। তবে সেই তালিকায় রাশিয়ার টিকা নেই। এর আগে গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভ্যাকসিন অনুমোদনের ক্ষেত্রে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করার আহ্বান জানায়।

/বিএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ