টিকটকের ৮০ ভাগ মালিকানা থাকছে বাইটড্যান্সের হাতে!

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:০৩, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৫, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

জনপ্রিয় ভিডিও অ্যাপ টিকটকের শতভাগ মালিকানা আর থাকছে না চীনা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের হাতে। এরইমধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওরাকল কর্পোরেশন এবং ওয়ালমার্টের কাছে ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রিতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গুঞ্জন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত টিকটক গ্লোবালের অধিকাংশ শেয়ারই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বাইটড্যান্সের। সেক্ষেত্রে বেশিরভাগ শেয়ারের মালিকানা চলে যাবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে। তবে এমন গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছে বাইটড্যান্স। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

সোমবার বাইটড্যান্স জানিয়েছে, টিকটক গ্লোবালের ব্যবসা আর তাদের একক মালিকানায় থাকছে না। বরং এটি তাদের একটি সহায়ক সংস্থায় পরিণত হচ্ছে।

এর আগে শনিবার ওরাকল ও ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে বাইটড্যান্স তাদের সঙ্গে যে চুক্তি সম্পাদন করেছে এ প্রক্রিয়ায় আরও মার্কিন  বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হবে। সেক্ষেত্রে অ্যাপটির মূল মালিকানা চলে যাবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে। তবে সোমবার ওরাকল ও ওয়ালমার্টের এমন মন্তব্যকে ‘গুজব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাইটড্যান্স। বাইটড্যান্সের এমন বক্তব্যের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওরাকল। ওয়ালমার্টের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে কোনও পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে মার্কিন কোম্পানিগুলোর কাছে টিকটকের ৪১ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছে বাইটড্যান্স।

সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে টিকটকের ব্যবসার দাম ৬০ বিলিয়ন ডলার ধরতে চায় বাইটড্যান্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় পাঁচ লাখ আট হাজার ৭৮০ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকটকের ব্যবসার মোট বাজার দর ৬০ বিলিয়ন ধরে সে অনুপাতে ওরাকল কর্পোরেশন এবং ওয়ালমার্টের কাছে শেয়ার বিক্রিতে আগ্রহী বাইটড্যান্স।

সমঝোতা অনুযায়ী টিকটকের বৈশ্বিক শেয়ারের ১২ দশমিক ৫ শতাংশের মালিকানা কিনে নেবে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকল। মার্কিন টিকটক ব্যবহারকারীদের ডাটা সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করবে ওরাকল। তাদের নিজস্ব ক্লাউড সিস্টেমে এসব ডাটা সংরক্ষণ করা হবে। শনিবার ওরাকলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, তারাও টিকটকের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নিচ্ছে।

সম্ভাব্য ক্রেতারা বাইটড্যান্সের নির্ধারিত দাম মেনে নিলে ২০ শতাংশ শেয়ারের জন্য ওরাকল এবং ওয়ালমার্টকে মোট ১২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, টিকটকের শেয়ার বিক্রির এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এর নিরাপত্তা হবে শতভাগ। তখন এতে স্বতন্ত্র ক্লাউড এবং খুবই শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে।

এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঁচ বিলিয়ন ডলারের তহবিল যুক্ত হবে বলেও জানান ট্রাম্প। তবে এই অর্থ ঠিক কিভাবে আসবে বা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে আসবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এদিকে টিকটকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের ১০ কোটি গ্রাহক রয়েছে। তারা এই প্ল্যাটফর্মটিকে ভালোবাসেন। কেননা, এটি বিনোদন, মতপ্রকাশ এবং সংযোগের একটি স্থান। নির্মাতাদের জন্য অর্থ ও তাদের পরিবারে খুশি নিয়ে আসার জন্য কাজ অব্যাহত রাখা এবং তাদের গোপনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে টিকটক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

টিকটকের বৈশ্বিক ব্যবসার সূচনা ২০১৮ সালে। এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশ দ্রুত বেড়েছে। যাদের বয়স ২৫-বছরের নিচে তাদের মধ্যে টিকটকের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে।

টিকটক-এর ঝুঁকি কোথায়?

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, টিকটকের মালিক চীনা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। আর সেটা এড়াতে চাইলে কোনও মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কাছে টিকটিক বিক্রির আল্টিমেটাম দেয় হোয়াইট হাউস।

হোয়াইট হাউসের অভিযোগ, চীনা এই কোম্পানিটি তার ৮০ কোটি ব্যবহারকারীর কাছ থেকে নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের গ্রাহক সংখ্যা ১০ কোটি। ট্রাম্প প্রশাসনের আশঙ্কা, এই গ্রাহকদের কাছ থেকে চীন নানা তথ্য হাতিয়ে নিয়ে সেটি হীন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে।

বেইজিং অবশ্য বরাবরই চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর চৌর্যবৃত্তির ব্যাপারে মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তারা বলছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণ বাণিজ্যিক নয়; বরং এটি রাজনৈতিক।

মার্কিন কোম্পানির কাছে ব্যবসার একাংশ বিক্রির প্রশ্নে বাইটড্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিন নিজেও সমালোচনার শিকার হয়েছেন। কোম্পানির চীনা স্টাফদের কাছে এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ব্যবসা ধরে রাখার আর কোনও উপায় ছিল না। সূত্র: ব্লুমবার্গ, বিবিসি।

/এমপি/

লাইভ

টপ
X