এবার তিব্বতে ‘শ্রম শিবিরের’ সন্ধান

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:০১, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৪, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

তিব্বতের হাজার হাজার মানুষকে চীন সামরিক কায়দার প্রশিক্ষণ শিবিরে থাকতে বাধ্য করছে যেগুলোকে বিশেষজ্ঞরা শ্রম শিবির বলে মনে করছেন বলে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, নীতি সংক্রান্ত নথি এবং স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি সম্পন্ন করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক জেমসটাউন ফাউন্ডেশন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সংশোধিত এই প্রতিবেদনটিতে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুরদের জন্য পরিচালিত শিবিরগুলোর পরিস্থিতির তুলনা করা হয়েছে। তবে নতুন এই প্রতিবেদন নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি চীনা কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

চীনের দুর্গম এবং মূলত বৌদ্ধ অধ্যুষিত তিব্বত একটি স্বশাসিত অঞ্চল। দীর্ঘ দিন থেকেই সেখানকার বাসিন্দারা সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ হওয়ার অভিযোগ করে আসছে। বেইজিং বলছে, হিমালয়ের পার্বত্য এলাকাটির উন্নতি ও সমৃদ্ধির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অন্য অনেকের মধ্যে তিব্বতের নির্বাসিত প্রেসিডেন্ট লবসাং সাঙ্গাই অভিযোগ করে আসছেন, সেখানকার বাসিন্দাদের শিক্ষার নামে শ্রম শিবির এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।

তবে নতুন গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বেইজিংয়ের ওই কর্মসূচির যে ব্যাপকতা সম্পর্কে আন্দাজ করা গেছে তা আগে কখনোই ধারণা করা যায়নি। গবেষণা প্রতিবেদনটির লেখক আদ্রিয়ান জেন্জ তিব্বত ও জিনজিয়ান প্রদেশ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ২০২০ সালের প্রথম মাসে তিব্বতের ওই শিবিরগুলোতে পাঁচ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এরা মূলত কৃষক এবং পশুপালক। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ এটাও ঠিক করে দিয়েছে যে কারা তিব্বত কিংবা চীনের কোন অংশে কাজ করতে পারবে।

প্রতিবেদনে চীনের যে পরিকল্পনার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির লক্ষ্য কর্ম শৃঙ্খলা, চীনা ভাষা এবং কর্ম নৈতিকতা’র উন্নয়ন। ওই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে এর লক্ষ্য অলস মানুষদের কাজের প্রতি মনোভাব বদলে দেওয়া। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ শেষে বেশিরভাগ মানুষকে কাপড় উৎপাদন, নির্মাণ বা কৃষি ক্ষেত্রে কম মজুরির কাজে নিয়োগ করা হয়।

চীনের বিরুদ্ধে জিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘুদের অন্তবর্তী শিবিরে আটক রাখা, নজরদারি, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের ওপর বাধাপ্রদান এবং নারীদের জোর করে বন্ধ্যাকরণের নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে বিপুল প্রমাণও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। এনিয়ে গত সপ্তাহে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে বেইজিং। এসব ক্যাম্পে নিপীড়নের অভিযোগ থাকলেও তা অস্বীকার করে আসছে চীন। ওই শ্বেতপত্রে এগুলোকে ‘ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, ‘সক্রিয় শ্রম এবং কর্মসংস্থান নীতির মাধ্যমে জিনজিয়াং ক্রমাগতভাবে মানুষের বস্তুগত এবং সাংস্কৃতিক জীবনের উন্নতি ঘটাচ্ছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের মানবাধিকার এবং উন্নয়নের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।’

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ