কিমের ক্ষমা প্রার্থনার পরও তদন্ত চায় দ. কোরিয়া

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৪৯, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২৮, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

দক্ষিণ কোরিয়ার এক কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বিরল ক্ষমা প্রার্থনা করলেও ঘটনাটি আরও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সিউল। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় প্রয়োজনে পিয়ংইয়ং-এর সঙ্গে যৌথ তদন্ত করা হবে। তারপরও উত্তর কোরিয়ার প্রতি নরম মনোভাব পোষণ করছেন- নিজ দেশে এমন সমালোচনার মুখে পড়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুই দেশের সীমান্তবর্তী সামুদ্রিক জলসীমা থেকে গত মঙ্গলবার নিখোঁজ হয় দক্ষিণ কোরিয়ার এক মৎস কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানায় উত্তর কোরীয় সেনারা ওই কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করে মরদেহ তেল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। তবে উত্তর কোরীয় সরকার এক ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’কে হত্যার কথা স্বীকার করলেও মরদেহ পোড়ানোর কথা অস্বীকার করে। তাদের দাবি, পিয়ংইয়ং-এর জলসীমা প্রবেশের পরও ওই ব্যক্তি সেনা সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে গুলি করা হয়।

শুক্রবার সিউলের পক্ষ থেকে জানানো হয় ওই ঘটনার জন্য বিরলভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। আন্তঃ কোরীয় সম্পর্ক দেখভাল করা উত্তর কোরিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ফ্রন্ট ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে কিমের বার্তা সিউলে পাঠানো হয় বলে জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, ঘটনাটিকে অপ্রত্যাশিত এবং দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা এজন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন কিম জং উন। তবে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এখনও এনিয়ে কিছু জানায়নি।

শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকের পর প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা উত্তর কোরিয়াকে অতিরিক্ত তদন্ত করার অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া প্রয়োজন পড়লে উত্তরের সঙ্গে যৌথ তদন্তেরও অনুরোধ জানানো হবে।’ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে দুই দেশের সীমান্তবর্তী সামুদ্রিক এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয় ওই বিবৃতিতে।

নিহত কর্মকর্তার মরদেহ খুঁজতে সামুদ্রিক সীমান্তের পশ্চিমাঞ্চলে বেশ কিছু জাহাজ ও শত শত কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্টগার্ড। এদিকে শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান বিরোধী দল পিউপিল পাওয়ার পার্টির তরফে বলা হয়েছে, কিম জং উনের ক্ষমা প্রার্থনা যথার্থ নয়। মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তুলতে সিউলের প্রতি আহ্বান জানায় দলটি।

উত্তর কোরিয়ার সেনা সদস্যদের হাতে মৎস কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ জোরালো হচ্ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, মুন জায়ে ইন উত্তর কোরিয়ার প্রতি নরম মনোভাব পোষণ করছেন আর নাগরিকদের জীবন রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের দাবি, ওই কর্মকর্তার ওপর গুলি চালানোর ছয় ঘণ্টা আগে শনাক্ত করা হলেও তাকে রক্ষার কোনও উদ্যোগ নেয়নি মুন জায়ে ইনের সরকার।

সীমান্তবর্তী দ্বীপ ইয়োনপিয়ং-এর কাছে একটি মাছ ধরা নৌকায় দায়িত্বরত অবস্থায় নিখোঁজ হয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর দাবি, ওই ব্যক্তি সম্ভবত উত্তর কোরিয়ায় পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তবে তার ভাই এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, নিশ্চয় সেখানে কোনও কিছু ঘটেছে।

বিশ্লেষেকেরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় কিম জং উন যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তা খুবই বিরল। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনের প্রয়োজন পড়লে কখনো কখনো অনুতাপ প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া। যেমন ২০১৫ সালে মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই সেনা সদস্য নিহত এবং ২০০৮ সালে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরে এক দক্ষিণ কোরীয় পর্যটককে গুলি করে হত্যার পর দুঃখ প্রকাশ করে পিয়ংইয়ং। তবে উত্তর কোরিয়ার কোনও নেতার এই ধরণের ক্ষমা প্রার্থনা খুবই বিরল।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ