খাশোগি হত্যা: তুরস্কে আরও ছয় সৌদি নাগরিক অভিযুক্ত

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:০০, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৩, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার ঘটনায় আরও ছয়জন সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন তুরস্কের প্রসিকিউটররা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়।

২০১৮ সালের অক্টোবরে ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন ভিন্ন মতাবলম্বী সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। তার সঙ্গে ছিলেন তুর্কি বাগদত্তা হেতিস চেঙ্গিস। বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতেই ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেছিলেন খাশোগি। তার নিখোঁজ রহস্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হলে তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কর্মকর্তাদের ভুলে নিহত হন ওই সাংবাদিক। তবে তার মৃতদেহের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের পাশাপাশি তুরস্ক আলাদাভাবে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত জুলাইয়ে ২০ সৌদি নাগরিকের অনুপস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করে তুর্কি আদালত। 

তুর্কি প্রসিকিউটরদের দাবি, সৌদি উপ-গোয়েন্দা প্রধান আহমেদ আল আসিরি ও রয়েল কোর্টের মিডিয়াবিষয়ক উপদেষ্টা সৌদ আল কাহতানি এ হত্যা অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সৌদি হিট টিমকে নির্দেশনা দিয়েছেন তারা।

আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার তুরস্কে নতুন করে অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে দুইজনের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ দুই কনস্যুলেট কর্মী হত্যাকাণ্ডের পর পরই তুরস্ক ছেড়ে গেছেন। আর অপর চারজনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। তারাও এখন তুরস্কে নেই। অভিযোগ প্রমাণ হলে দুই কনস্যুলেট কর্মীর যাবজ্জীবন ও অপর চারজনের ৫ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে।

গত মে মাসে খাশোগির সন্তানরা বলেছিলেন, তারা তাদের বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। তার মানে হত্যাকারীদের কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। ৭ সেপ্টেম্বর খাশোগি হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া পাঁচজনের সাজা কমিয়ে দেয় সৌদি আদালত। তার বিরুদ্ধে ২০ বছর করে কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আরও তিন ব্যক্তিকে সাত থেকে দশ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত কারও নাম প্রকাশ করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

/এফইউ/

লাইভ

টপ