বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৪৮, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৩, অক্টোবর ০১, ২০২০

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও শীর্ষস্থানীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছেন ৫১ জন নারী। তাদের দাবি, ইবোলা সংকট চলাকালীন ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ওইসব আন্তর্জাতিক কর্মীর নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তারা। সংকটের সময়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাদেরকে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা দ্য নিউ হিউম্যানিটারিয়ান ও থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের করা প্রায় এক বছরের অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে এমন তথ্য। নিপীড়নের শিকার ওই নারীদের সবাই আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গোর অধিবাসী। এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত করছে তারা।

নিপীড়নের শিকার নারীদের কেউ বাবুর্চি, কেউ পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবার কেউ কমিউনিটি পর্যায়ের কর্মী ছিলেন। তাদেরকে স্বল্প মেয়াদি চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মাসে তাদের আয় ছিল ৫০ ডলার থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত, যা তাদের স্বাভাবিক সময়ের মজুরির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। জবানবন্দি দেওয়া ৫১ নারীর বেশিরভাগই জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক কর্মীদের কেউ কেউ চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিতো। কেউ কেউ আবার তা করতে বাধ্য করতো। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে চুক্তি বাতিল করে দেওয়া হতো।

ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের পানিতে নেশার দ্রব্য গুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কেউ কেউ আবার বলেছেন অফিস ও হাসপাতালে আক্রমণের শিকার হয়েছেন তারা। কারও কারও দাবি, চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের রুমে আটকে রাখা হয়েছিল। যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাবটি চাকরি পাওয়ার একমাত্র শর্ত হয়ে উঠেছিল।
 
নিপীড়নের শিকার হওয়াদের মধ্যে ইবোলা থেকে সেরে ওঠা এক নারীও ছিলেন। মনস্তাত্ত্বিক সহযোগিতা চেয়ে ওই আন্তর্জাতিক কর্মীদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। অভিযুক্তদের কেউ কেউ বেলজিয়াম, বুরকিনা ফাসো, কানাডা, ফ্রান্স, গিনি-কোনাক্রি ও আইভরি কোস্টের অধিবাসী। তাদের অনেকে জন্ম প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিতে চাইতেন না। অন্তত দুইজন নারী জানিয়েছেন, তারা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, গত মার্চের দিকেও নিপীড়নের ঘটনা দেখা গেছে। ৪৪ বছর বয়সী এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘অনেক নারীই এ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।’ অনেকেই জানিয়েছেন, লজ্জা, প্রতিশোধমূলক আচরণের শিকার হওয়া এবং চাকরি হারানোর ভয়ে তারা এখন পর্যন্ত এ নিয়ে অভিযোগ করেননি। ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত হয়ে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
 
কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেড় হাজারেরও বেশি কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে এ সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে। অন্তত ৩০টি ঘটনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে যে ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে তা অগ্রহণযোগ্য, দৃঢ়ভাবে এ অভিযোগের তদন্ত করা হবে। কোনও কমিউনিটির মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করাটা নিন্দনীয় কাজ। আমাদের কর্মী, চুক্তিভুক্ত কর্মী কিংবা সহযোগীদের কেউ এমন আচরণ করলে তা বরদাশত করা হবে না।’ সংস্থা জানিয়েছে, যৌন নিপীড়নের ঘটনায় তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। এ ব্যাপারে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কারও বিরুদ্ধে যদি এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হওয়াসহ কঠোর পরিণাম ভোগ করতে হবে তাকে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর পরই অভিযোগের তালিকায় রয়েছে কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা। অন্তত ৮ জন নারী তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। এছাড়া জাতিসংঘের আরও দুই সংস্থা ও চারটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা কর্মীদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে।
/এফইউ/এমওএফ/

লাইভ

টপ