হাথরাসের পথে আটক রাহুল গান্ধী, মাটিতে ফেলে লাঠিপেটার অভিযোগ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৫৩, অক্টোবর ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৯, অক্টোবর ০১, ২০২০

ভারতের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়ে নিহত দলিত নারীর উত্তর প্রদেশের হাথরাসের বাড়িতে যাওয়ার পথে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধীকে আটক করেছে রাজ্যটির পুলিশ। হাথরাস থেকে ১৪২ কিলোমিটার দূরে দিল্লি-নয়দা মহাসড়কে তাদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। এসময় গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করলে পুলিশ তাকে ও বোন পিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে। রাহুলের অভিযোগ, পুলিশ তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলেছে এবং লাঠিপেটা করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এখবর জানিয়েছে।

১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে এক দলিত তরুণীকে চার উচ্চবর্ণের ব্যক্তি ধর্ষণ করে। মঙ্গলবার দিল্লির হাসপাতালে ২০ বছরের ওই তরুণী মারা যান। পুলিশ রাতে তার দেহ সৎকার করে। নিহতের পরিবারের দাবি, তারা দলিত হওয়ার জন্যই পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছিল। ধর্ষণের পরে তরুণীর ওপরে বীভৎস অত্যাচার করে অপরাধীরা। পুলিশ জানায়, তরুণীর জিভেও ক্ষত ছিল। চার অপরাধী যখন তাকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি নিজের জিভ কামড়ে ফেলেন। অভিযোগ রয়েছে, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জোর করে তার দেহ আত্মীয়দের থেকে কেড়ে নিয়ে যায়। পরিবারকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়। কয়েকজন পুলিশকর্মী মিলে রাত আড়াইটায় তরুণীর দেহ পুড়িয়ে দেন।

মঙ্গলবা সকাল থেকেই কংগ্রেস সমর্থকরা উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন। রাহুলের গাড়ি দিল্লি পেরিয়ে যেই উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় প্রবেশের পর তা থামিয়ে দেওয়া হয়। রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গাড়ি থেকে নেমে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। সেখানে বহু সংখ্যক কংগ্রেস কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। রাহুলরা সামনের দিকে এগোতে চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ঠেলে সরিয়ে দেয়।

রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সফরের আগে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ রাজ্যে বড় জমায়েতের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। উত্তরপ্রদেশের সীমান্তও ব্যারিকেড করে আটকে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, করোনা মহামারি ঠেকানোর জন্যই এই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

রাহুল বলেন, ‘পুলিশ একটু আগেই আমাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে। আমাদের ওপরে লাঠিচার্জ করেছে। আমি প্রশ্ন করতে চাই, এদেশে কি কেবল মোদি রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারেন? সাধারণ মানুষের কি হাঁটার অধিকার নেই? আমাদের গাড়ি থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই আমরা হাঁটছিলাম।’

পুলিশের কাছে রাহুল জানতে চান, কী অপরাধে তাদের আটক করা হলো?

এদিকে, সমাজবাদী পার্টিও মৃত তরুণীর গ্রামে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু গ্রামের সীমান্তে ওই দলের সমর্থকদের আটকে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোনও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওই গ্রামে যেতে দেওয়া হয়নি।

 

/এএ/

লাইভ

টপ
X