আর্মেনীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি আজারবাইজানের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:৫১, অক্টোবর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৫, অক্টোবর ১৮, ২০২০

আর্মেনিয়ার একটি এসইউ-২৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে আজারবাইজান। শনিবার আজেরি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

আজেরি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১১ মিনিটে বিমানটি থেকে জাবরাঈল শহরের কাছে আজেরি সেনাদের ওপর হামলার প্রাক্কালে এটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।

নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সংঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়। গত কয়েক দিনের সংঘাতে ৩ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এই সংঘাতে নিজ দেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছে আর্মেনিয়া। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে এ বাস্তবতা স্বীকার করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান। তিনি বলেন, আর্মেনিয়ার 'বহু হতাহত' হয়েছে। তবে এখনও সেনাবাহিনী কারাবাখের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।

নিকোল পাশিনিয়ান বলেন, ‘আমাদের সবার জানা প্রয়োজন যে আমরা একটা কঠিন পরিস্থিতি পার করছি। জনশক্তি ও উপকরণের ক্ষয়ক্ষতি হলেও আর্মেনিয়ার সেনারা এখনও নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। তারা প্রতিপক্ষের জনশক্তি ও উপকরণের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি করেছে।’

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ বলেছেন, আর্মেনিয়া তাদের গ্যাস ও তেলের পাইপ লাইনে আক্রমণ করেছে। তুরস্কের প্রচার মাধ্যম হেবারতুর্ক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আর্মেনিয়া আমাদের পাইপলাইন আক্রমণ করে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা যদি এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে, তাহলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।’

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে আজারবাইজানের সঙ্গে তার দেশের চলমান সংঘাতের জন্য তুরস্ককে দায়ী করেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী। রয়টার্সকে তিনি বলেন, তার বিশ্বাস তুরস্ক অবস্থান বদলালেই আজারবাইজান কারাবাখে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করবে।

নিকোল পাশিনিয়ান বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তুরস্কের অবস্থান পরিবর্তন না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আজারবাইজান থামবে না। তারা সংঘাত থামাবে না।

সাবেক সোভিয়েত দেশগুলোর সামরিক জোটের সদস্য আর্মেনিয়া, যার নেতৃত্বে রয়েছে রাশিয়া। আবার আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্ক। তুর্কি ও আজেরি রাজনীতিকরা দুই দেশের সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করতে একটি বাক্য ব্যবহার করে থাকেন। এটি হচ্ছে, ‘এক জাতি, দুই দেশ।’ দুই দেশের মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মিল রয়েছে। সূত্র: বিবিসি।

/এমপি/এমওএফ/

লাইভ

টপ