৬৭ বছর পর নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:৪৮, অক্টোবর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৯, অক্টোবর ১৮, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এক ইতিহাসে এই প্রথম এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, লিসা মন্টগোমারি নামের এই নারী ২০০৪ সালে মিসৌরি রাজ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার পেট কেটে গর্ভস্থ শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ৮ ডিসেম্বর ইন্ডিয়ানাতে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা এখবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে এর আগে সবশেষ যে নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল তার নাম বনি হেডি। মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রের মতে, ১৯৫৩ সালে মিসৌরির একটি গ্যাস চেম্বারে তার সাজা কার্যকর করা হয়েছিল। এছাড়া ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে ৭৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং এগুলোর মধ্যে মাত্র তিনজনের সাজা কার্যকর করা হয়েছে। ডিসেম্বরে মন্টগোমারির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা হবে জাতীয় পর্যায়ে এবছরের অষ্টম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার বলেছেন, লিসা মন্টগোমারি ঘৃণ্য অপরাধ করেছে।

ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসে লিসা মন্টগোমারি একটি বাচ্চা কুকুর কেনার জন্য ক্যানসাস থেকে গাড়ি চালিয়ে ভিকটিম ববি জো স্টিনেটের বাড়িতে আসেন। স্টিনেট তখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘরের ভেতরে প্রবেশের পর লিসা মন্টগোমারি স্টিনেটকে আক্রমণ করেন এবং তার গলা টিপে ধরে। এক পর্যায়ে স্টিনেট জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এর পর রান্নার একটি ছুরি দিয়ে মন্টগোমারি স্টিনেটের তলপেট ফেলে। তখন স্টিনেটের জ্ঞান ফিরে আসে। এর পর তাদের মধ্যে ধ্বস্তাধস্তি হয়। মন্টগোমারি তখন স্টিনেটের গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে তাকে হত্যা করে। মন্টগোমারি পরে স্টিনেটের পেট থেকে শিশুটিকে বের করে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। সে তাকে তার নিজের বাচ্চা বলে চালানোর চেষ্টা করে।

এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হলে একজন বিচারক অপহরণ ও হত্যার দায়ে মন্টগোমারিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সর্বসম্মতিক্রমে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মন্টগোমারির আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয় যে শৈশবে তাকে পেটানোর কারণে তার মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। একারণে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ঠিক হবে না।

 

/এএ/

লাইভ

টপ