আগামী ৩ বছরে অন্তত ১‌২ লাখ নতুন অভিবাসী নেবে কানাডা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:১০, অক্টোবর ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১০, অক্টোবর ৩১, ২০২০

আগামী তিন বছরের মধ্যে নতুন ১২ লাখের বেশি অভিবাসীকে নিজ দেশে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কানাডা। শুক্রবার দেশটির কেন্দ্রীয় অভিবাসন মন্ত্রী মার্কো মেন্দিসিনো জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রম বাজারের ঘাটতি পূরণ এবং অর্থনীতিতে গতি আনতে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজধানী অটোয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী মার্কো মেন্দিসিনো বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২১ সালে চার লাখ এক হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণ, ২০২২ সালে আরও চার লাখ ১১ হাজার এবং ২০২৩ সালে আরও চার লাখ ২১ হাজার অভিবাসীকে গ্রহণ করা।

মার্কো মেন্দিসিনো বলেন, কানাডার আরও কর্মী দরকার আর তা পূরণের উপায় হলো অভিবাসন। তিনি বলেন, ‘মহামারির আগে অভিবাসনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য ছিলো উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এখন এটি সাধারণভাবেই গুরুত্বপূর্ণ।‘

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারি স্কুল অব পাবলিক পলিসির অভিবাসন নীতি বিষয়ক গবেষক এবং একজন শরণার্থী রবার্ট ফ্যালকোনার শুক্রবার এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, সরকার যদি লক্ষ্য পূরণ করতে পারে তাহলে ১৯১১ সালের পর আগামী তিন বছরে অভিবাসী নেওয়ার রেকর্ড তৈরি হবে।

পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে জারি করা নোটিশে অটোয়া বলেছে, ২০২১ সালে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে সক্ষম নতুন ২ লাখ ৩২ হাজার পাঁচশ’ অভিবাসীকে স্বাগত জানানো হবে, এর পাশাপাশি বর্তমানে কানাডায় অবস্থানরতদের পরিবারের সদস্য নেওয়া হবে  এক লাখ ৩ হাজার পাঁচশ’ জন। শরণার্থী এবং অন্যান্য সুরক্ষিত ব্যক্তি নেওয়া হবে ৫৯ হাজার পাঁচশ’ জন। এছাড়া মানবিক কারণে নেওয়া হবে আরও পাঁচ হাজার পাঁচশ’ জনকে।

দীর্ঘ দিন থেকেই কানাডার অভিবাসন সিস্টেমকে মডেল হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। ঐতিহাসিকভাবেই দেশটি দক্ষ কর্মীদের পাশাপাশি শরণার্থী এবং ইতোমধ্যে সেদেশে থাকা মানুষদের পরিবারের আগ্রহী সদস্যদের গ্রহণ করে থাকে।

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এই বছরের মার্চে বেশিরভাগ অভিবাসীর জন্যই নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দেয় কানাডা। আগস্ট জুড়ে দেশটি নতুন এক লাখ ২৮ হাজার ৪২৫ জন নতুন আগতকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ২০২০ সালের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্য তিন লাখ ৪১ হাজার থেকে স্বাগত জানানোর পরিমাণ অর্ধেকেরও কম। এছাড়া করোনা মহামারির কারণে বৈষম্য বাড়ার পাশাপাশি কানাডার অভিবাসন সিস্টেমের দীর্ঘ দিনের সমস্যা যাচাই বাড়তে থাকাও প্রকট হয়েছে।

দেশটিতে বহু আশ্রয়প্রার্থী এবং শরণার্থী দুর্বল কর্মক্ষেত্রের মুখোমুখি হয়। স্বাস্থ্যসেবা, খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং খামারের মতো কানাডার কয়েকটি মূল শিল্প এমন কর্মীদের ওপর নির্ভর করে যাদের সতর্কতামূলক অভিবাসন মর্যাদা তাদের নিপীড়নের ঝুঁকিতে ফেলে।

এসব কর্মীদের জন্য স্থায়ী অভিবাসন মর্যাদার দাবিতে গত কয়েক মাস ধরেই দেশটিতে আন্দোলন জোরালো হয়েছে। এসব কর্মীদের অনেকেই কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি জনিত পরিস্থিতিতে কাজ করে থাকে। 

/জেজে/

লাইভ

টপ