করোনার বিস্তার নিয়ে নতুন গবেষণা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৪৬, অক্টোবর ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৬, নভেম্বর ০১, ২০২০

কোনও বাড়িতে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত থাকলে সেই পরিবারের অন্য সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা খুবই সাধারণ, এবং এই সংক্রমণ খুবই দ্রুত ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নতুন এক গবেষণায় এই তথ্য জানা গেছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশ হওয়া ওই গবেষণায় সিডিসি বলছে, পরিবারের অন্যদের সুরক্ষার জন্য আক্রান্ত কিংবা সন্দেহভাজন আক্রান্তের পরীক্ষা করানো এবং তার ফলাফল পাওয়ার আগেই ওই ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা (আইসোলেশন) রাখা উচিত। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

রোগ ও মৃত্যুহার সংক্রান্ত সাপ্তাহিক প্রতিবেদন শুক্রবার প্রকাশ করে সিডিসি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কোনও ব্যক্তিকে দ্রুত আইসোলেশনের কারণে বাড়িতে সংক্রমণ কমতে পারে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি যার কোভিড-১৯ থাকতে পারে তার বিচ্ছিন্ন থাকা উচিত, বাড়িতে থাকা উচিত, আলাদা ঘর এবং সম্ভব হলে আলাদা বাথরুম ব্যবহার করা উচিত।’ এছাড়া বাড়ির সব সদস্যের সব সময়ই মাস্ক পরে থাকা উচিত বলে জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাসভিলে, টেনেসি এবং মার্সফিল্ড, উইসকিনসনে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ১০১ ব্যক্তির ওপরে পরিচালিত এক গবেষণার অংশ হিসেবে নতুন ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তদের বাড়িতে বসবাসকারী আরও ১৯১ জনকেও ওই গবেষণায় যুক্ত করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে বসবাসকারী অর্ধেকেরও বেশি মানুষ (৫৩ শতাংশ) এক সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া আরও দেখা গেছে প্রথম কারও লক্ষণ দেখা যাওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় কেউ আক্রান্ত হওয়ার হার প্রায় ৭৫ শতাংশ। গবেষকরা বলছেন, আক্রান্ত রোগী প্রাপ্তবয়স্ক কিংবা শিশু যাই হোক না কেন সংক্রমণ ঘটেছেই।

বাড়িতে ৫৩ শতাংশ আক্রান্ত হওয়ার তথ্য এখন জানতে পারা সংক্রমণের হারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গবেষণাগুলোতে এই আক্রান্তের হারের পরিমাণ ছিল ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। গবেষকেরা লিখেছেন, এই গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান হলো প্রথম আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর বাড়ির অর্ধেকেরও কম সদস্য লক্ষণ দেখতে পাওয়ার কথা জানায়। আক্রান্তদের অনেকেই সাত দিন ধরেই কোনও লক্ষণ দেখতে পায়নি, তারা সংক্রমণের আশঙ্কা এবং বিচ্ছিন্ন থাকার গুরুত্বকে অবজ্ঞা করেছে বলেও জানানো হয় ওই গবেষণায়।

উল্লেখ্য, এমন এক সময়ে সিডিসির নতুন গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হলো যেদিন যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক সংক্রমণের বিশ্ব রেকর্ড হয়েছে। শুক্রবার বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১ লাখের বেশি মানুষ। এর আগের দিন দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার।

/জেজে/বিএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ