'দ্য আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে' হামলা‘বাংলাদেশ কখনও আমার দাদুকে সম্মান দিতে পারেনি’

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:২০, জানুয়ারি ১৭, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫২, জানুয়ারি ১৭, ২০১৬

মাদ্রাসা ছাত্রদের দেওয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত 'দ্য আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে' হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা আর ক্ষোভ জানিয়েছে ভারতের শিল্পাঙ্গন। যে কোনও ঘটনায় শিল্প স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার নিন্দা জানান তারা। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও দাবি জানান ভারতীয় শিল্পীরা। ক্ষোভ জানিয়েছেন মুম্বাইয়ে অবস্থানরত সুরসম্রাটের নাতি আশিষ খাঁও।
এক মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিক্ষুব্ধ মাদ্রাসা ছাত্ররা আগুন দেয় সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত 'দ্য আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে'। তাতে পুড়ে ছাই হয়ে যায় সুরসম্রাটের ব্যবহৃত বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, তাঁর লেখা চিঠি ও দুর্লভ কিছু ছবি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই ঘটনার বিরুদ্ধে নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী ওস্তাদ রশীদ খান।
তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি না মানুষ কীভাবে এতোটা নিচে নামতে পারে। বাংলাদেশের এতো সমৃদ্ধ একটি সংস্কৃতি রয়েছে। গত নভেম্বরে আমি ঢাকায় পারফর্ম করেছিলাম। সেখানে ৬০ হাজার লোক যোগ দিয়েছিলেন। আমি নিশ্চিত, যেসব লোক শিল্পকে ভালোবাসেন তারা এমন নৃশংসতা চালাতে পারেন না। আমার ধারণা, মৌলবাদীরা কাজটি করেছে। তবে ধার্মিক মানুষরাও সঙ্গীত ভালোবাসেন। কলকাতায় আমি দেখেছি গোলাম আলী ভাইয়ের অনুষ্ঠানে অনেক মুসলিম এসেছিলেন।’

এরইমধ্যে হামলার খবরটি পৌঁছে গেছে সুরসম্রাটের নাতি ওস্তাদ আশিষ খাঁ এর কাছেও। মুম্বাইয়ে অবস্থানরত এ সরোদবাদক আফসোস করে বলেন, ‘আমার দাদুকে বাংলাদেশ কখনও সম্মান দিতে পারেনি। ওই বাড়িটি এক জমিদারের। তিনিই আমার দাদুকে এটি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। সেখানে তার ব্যবহৃত সঙ্গীত সরঞ্জামাদি নিয়ে জাদুঘর তৈরি করা হয়। এখন সেগুলোও ধব্ংস করে ফেলা হয়েছে। আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি। বাংলাদেশ সরকারের উচিত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’  

দুই-এক মাসের মধ্যেই ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন পরিদর্শনে আসার কথা ছিল সরোদবাদক তাজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদারের। এ ধরনের হামলার ঘটনাকে বিশ্ব শিল্প সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে তাজেন্দ্র বলেন, ‘এটি আফগানিস্তানের বামিয়ান বুদ্ধ মূর্তিতে তালেবান হামলার মতোই হিংস্র ঘটনা। এটি গোটা বিশ্ব শিল্প সম্প্রদায়ের ওপর আঘাতের সামিল।’

ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে উল্লেখ করে পণ্ডিত যশরাজের মেয়ে ও সঙ্গীত প্রযোজক দুর্গা যশরাজ বলেন, ‘নির্বিচারে দেশের ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার একটি প্রবণতা এটি যা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।’

যেকোনও ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার প্রবণতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানান ওস্তাদ রশীদ খাঁ। তিনি বলেন, ‘যখনই কোনও সংঘাত তৈরি হয় তখনই হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য হয় শিল্প ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। গুজরাট দাঙ্গার পর ওস্তাদ ফাইয়াজ খানের সমাধিতে হামলা হয়েছিল। এখন এ সঙ্গীতাঙ্গনের ওপর হামলা হয়েছে। শিল্প এবং শিল্পীদের ওপর এভাবে হামলা চালানো ঠিক নয়। লোকজন তাদের প্রাণ হারাচ্ছে, এটা দুঃখজনক। কোন্ও শিল্পী সন্ত্রাস কিংবা সহিংসতাকে সমর্থন করেন না। ওস্তাদ ফাইয়াজ খাঁ আর ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ এখন আর বেঁচে নেই। তারপরও তাদের ছাড়া হচ্ছে না।’

 

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

/এফইউ/

লাইভ

টপ