পুরনো পতাকাতেই নিউজিল্যান্ডের আস্থা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:১৪, মার্চ ২৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৭, মার্চ ২৪, ২০১৬

শেষ পর্যন্ত পুরনো পতাকাতেই আস্থা রেখেছে নিউজিল্যান্ডের মানুষ। বর্তমান এবং নতুন আরেকটি পতাকার ওপর ভোটাভুটিতে পুরনো পতাকার পক্ষেই রায় দিয়েছেন অধিকাংশ নাগিরিক। অর্থাৎ, দেশটির বেশিরভাগ মানুষই তাদের পতাকা পরিবর্তন করতে চাচ্ছে না। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের জাতীয় পতাকা পরিবর্তনের যে আলোচনা চলছিল সেটা বাতিল হয়ে গেলো।

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের বর্তমান পতাকার এক কোণে যুক্তরাজ্যের পতাকা ইউনিয়ন জ্যাকের নকশা রয়েছে। তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ঔপনিবেশিক ইতিহাসের সাক্ষ্যবাহী এই পতাকা নিয়ে আপত্তি তোলেন জন কি। তার যুক্তি, নিউজিল্যান্ডের বর্তমান জাতীয় পতাকা একটি ঐতিহাসিক সময়কে তুলে ধরে যার থেকে নিউজিল্যান্ড অনেক দূরে সরে এসেছে। এরপর গণভোটের সিদ্ধান্ত হয়।

এবারের গণভোটের আগে কয়েকটি নকশার মধ্য থেকে একটি নকশা নির্বাচনের লক্ষ্যে গণভোট হয়েছিল। সেই ভোটে নির্বাচিত পতাকা ও বর্তমান পতাকার মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার জন্য এবারের গণভোট অনুষ্ঠিত হলো।

নিউজিল্যান্ডের পতাকা

গণভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, নিউজিল্যান্ডের ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ পতাকা পরিবর্তনের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। নতুন পতাকার পক্ষে রায় দিয়েছেন ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ। ভোটাভুটিতে অংশ নেন ২১ লাখ মানুষ। বৃহস্পতিবার এই ফল ঘোষণা করা হয়। ১৯০২ সালের পর থেকেই বর্তমান পতাকা ব্যবহার করছে নিউজিল্যান্ড।

নির্বাচনে খরচ হয়েছে ১৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এতে সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী জন কি। তিনি নতুন পতাকার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু ভোটের ফলাফলে হতাশ হলেও জনগণের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখাতে বলেছেন সবাইকে।

২০১৫ সালের শুরুতে তিনি নতুন জাতীয় পতাকার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরে নতুন জাতীয় পতাকার নকশা পাঠানোর আহ্বান জানান। প্রায় ১০ হাজার নকশা থেকে পাঁচটির সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয় এবং ওই পাঁচটি পতাকায় জনগণকে ভোট দিতে বলা হয়। নির্বাচিত নতুন পতাকাটির নকশা করেছেন নিউজিল্যান্ডের স্থপতি কেলি লকউড।

রুপালি ফার্ন নিউজিল্যান্ডের জাতীয় প্রতীক এবং চারটি তারকা সাউদার্ন ক্রসের প্রতীক। পতাকা সংস্কারের পুরো কাজে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতো বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়ে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সূত্র: বিবিসি।

/এমপি/বিএ/

লাইভ

টপ